আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্বের পথে নতুন শর্ত, ভাষা ও নাগরিক জ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তাব
- প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫০
- / 8
ডাবলিন, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আয়ারল্যান্ডে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন সংস্কার কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় গণনাযোগ্য বৈধ বসবাসের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের ভাষাজ্ঞান ও আয়ারল্যান্ডের নাগরিক জীবন সম্পর্কে জ্ঞান যাচাইয়ে নতুন পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এনেছেন। প্রস্তাবগুলো আইরিশ ন্যাশনালিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬-এর মাধ্যমে আইনি কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তবেই সেগুলো নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন ব্যবস্থায় সাধারণত গত নয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছর গণনাযোগ্য বৈধ বসবাসের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে নাগরিকত্বের আবেদনের ঠিক আগের এক বছর ধারাবাহিকভাবে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করতে হয়।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রয়োজনীয় গণনাযোগ্য বসবাসের সময় আট বছরে উন্নীত হতে পারে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য যোগ্যতা অর্জনে আবেদনকারীদের আরও দীর্ঘ সময় আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস করতে হতে পারে।
প্রস্তাবিত সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভাষাজ্ঞান পরীক্ষা। নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের ইংরেজি, আইরিশ অথবা আইরিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে দক্ষতা প্রমাণ করতে পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে।
তবে আবেদনকারীদের জন্য কোন স্তরের ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন হবে এবং পরীক্ষার কাঠামো কী হবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য একটি সিভিক্স পরীক্ষারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সমাজ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে আবেদনকারীর জ্ঞান যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়টিও নাগরিকত্বের যোগ্যতা নির্ধারণে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় ইতোমধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে পাঁচ বছর গণনাযোগ্য বসবাসের শর্ত কার্যকর হয়েছে।
এ ছাড়া আইরিশ নাগরিকের বিদেশি স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থাতেও ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি ন্যাচারালাইজেশনের নিয়ম থেকে আলাদা। আইরিশ বাবা-মায়ের মাধ্যমে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাদা-দাদি বা নানা-নানির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার নিয়ম এই প্রস্তাবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।
প্রস্তাবিত সংস্কারে মূলত ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে বসবাসের সময় বাড়ানো, ভাষাজ্ঞান ও সিভিক্স পরীক্ষা, আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং অভিবাসন আইন মেনে চলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরটিই নিউজ, আইরিশ টাইমস, আইরিশ এক্সামিনার এবং আইরিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনো চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। তাই বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম এবং প্রস্তাবিত ভবিষ্যৎ নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।





























