বীমা না থাকলেও আমেরিকায় ওষুধের খরচ কমানোর সহজ উপায়, ২০০ ডলারের ওষুধ ২০ ডলারে– যেভাবে মিলবে সহায়তা
- প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৮:২৮
- / 9
নিউইয়র্ক, ৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক পরিবারের কাছে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে পাওয়ার পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে, ওষুধটি কিনতে কত খরচ হবে? একই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এক ফার্মেসিতে যেখানে কয়েকশ ডলার হতে পারে, অন্য কোথাও সেটিই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যবীমা না থাকলে বা বীমায় ওষুধটি কভার না করলে এই পার্থক্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ধরা যাক, কোনো প্রেসক্রিপশন ওষুধের বীমাবিহীন মূল্য ২০০ ডলার। সেটি মানেই রোগীকে ২০০ ডলারই দিতে হবে এমন নয়। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রোগী সহায়তা কর্মসূচি, প্রেসক্রিপশন ডিসকাউন্ট কার্ড এবং সরকারি বা কমিউনিটি সহায়তার মতো বৈধ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওষুধের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে যারা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওষুধের তালিকাভুক্ত মূল্য, বীমার পরিশোধযোগ্য মূল্য এবং ডিসকাউন্টের পর নগদ মূল্য এক নাও হতে পারে।
ওষুধের ব্যয় কমানোর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো প্রস্তুতকারী কোম্পানির রোগী সহায়তা কর্মসূচি। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু ব্র্যান্ডের ওষুধ বিনামূল্যে বা কম দামে পাওয়া যেতে পারে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিডিমেডসের তথ্যভান্ডারে বিভিন্ন ওষুধ ও রোগের জন্য এমন সহায়তা কর্মসূচি, কুপন এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।
নিডিমেডসের বিনামূল্যের ওষুধ ছাড়ের কার্ডও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্ডটি ৬৫ হাজারের বেশি ফার্মেসিতে গ্রহণযোগ্য এবং নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি স্বাস্থ্যবীমা নয় এবং প্রতিটি ওষুধে একই হারে ছাড় পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয় উপায় হলো প্রেসক্রিপশন ডিসকাউন্ট সেবার মাধ্যমে বিভিন্ন ফার্মেসির দাম তুলনা করা। গুডআরএক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে ওষুধের নাম ও অবস্থান দিয়ে সম্ভাব্য দাম দেখা যায়। বিনামূল্যের ডিসকাউন্ট কার্ড বা কুপন ব্যবহার করেও কিছু ওষুধ কম দামে কেনার সুযোগ থাকতে পারে।
তাই একটি নির্দিষ্ট ফার্মেসির দাম দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে কাছাকাছি কয়েকটি ফার্মেসিতে নগদ মূল্য, ডিসকাউন্ট কার্ডের মূল্য এবং স্বাস্থ্যবীমার মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য মূল্য তুলনা করা যেতে পারে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সরকারি ও কমিউনিটি সহায়তা। মেডিকেইডের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই বহির্বিভাগের প্রেসক্রিপশন ওষুধের কভারেজ রয়েছে। তবে কভারেজ, ওষুধের তালিকা এবং রোগীর নিজস্ব খরচ অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা হতে পারে।
এ ছাড়া ৩৪০বি কর্মসূচির আওতায় যোগ্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেফটি-নেট প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন ওষুধ কম দামে সংগ্রহ করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি রোগী বা প্রতিটি ফার্মেসিতে একই দামে ওষুধ পাওয়া যাবে। ৩৪০বি সুবিধা নির্দিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠান ও তাদের ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ওষুধের খরচ কমানোর আরেকটি উপায় হলো জেনেরিক সংস্করণ সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা। কোনো ব্র্যান্ডের ওষুধের একই সক্রিয় উপাদানের জেনেরিক সংস্করণ পাওয়া গেলে সেটি তুলনামূলক কম খরচে কেনার সুযোগ থাকতে পারে। একই সঙ্গে ৯০ দিনের সরবরাহ নিলে খরচ কমবে কি না, সেটিও চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছে জানতে পারেন।
কম খরচের জেনেরিক ওষুধের অনলাইন ফার্মেসিও একটি বিকল্প হতে পারে। মার্ক কিউবানের কস্ট প্লাস ড্রাগসের মতো সেবায় কিছু জেনেরিক ওষুধ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। তবে ওষুধ, ডোজ, সরবরাহ এবং সময় অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
শুরুতে নিজের প্রেসক্রিপশনে থাকা ওষুধের নাম দিয়ে নিডিমেডস বা গুডআরএক্সে সম্ভাব্য দাম ও ছাড় যাচাই করা যেতে পারে। এরপর কয়েকটি স্থানীয় ফার্মেসির দাম তুলনা করে চিকিৎসকের কাছে জেনেরিক সংস্করণ, ৯০ দিনের সরবরাহ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রোগী সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে পারেন।
তবে কোনো ওষুধের দাম বেশি হওয়ার কারণে নিজে থেকে সেটি বন্ধ করা, ডোজ পরিবর্তন করা বা অন্য ওষুধে চলে যাওয়া উচিত নয়। ছাড় বা সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা ব্যক্তির আয়, স্বাস্থ্যবীমা, নির্দিষ্ট ওষুধ এবং অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ওষুধ পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



























