কানাডিয়ান পাসপোর্ট সম্পর্কে যে ৭ তথ্য জানা জরুরি, নতুন আইনে বাড়ছে নাগরিকত্বের সুযোগ
- প্রকাশঃ ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৯
- / 10
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ভ্রমণ নথি হিসেবে পরিচিত কানাডিয়ান পাসপোর্টে রয়েছে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যা অনেকেরই অজানা। সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষ কানাডিয়ান নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া বিল সি-৩ (Bill C-3) অনুযায়ী বংশসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সম্প্রসারণের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের লাখো মানুষের জন্য কানাডার নাগরিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় এগিয়ে কানাডা
২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, কানাডিয়ান পাসপোর্ট বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী পাসপোর্ট। একই সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট রয়েছে দশম স্থানে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো এই সূচকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যায় কানাডা। এরপর থেকে সেই অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি।
বর্তমানে কানাডিয়ান পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে বিশ্বের ১৮৩টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারেন।
৩০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট না পেলে ফি ফেরত
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে চালু হওয়া নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো আবেদন ৩০ কার্যদিবসের বেশি সময় নিলে আবেদনকারীকে পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথির পুরো সরকারি ফি ফেরত দেওয়া হয়।
যদিও সাধারণভাবে কানাডায় পাসপোর্ট ইস্যু করতে ১০ থেকে ২০ কার্যদিবস সময় লাগে, তবু এই নীতি সরকারি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে।
অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ
গত ২৮ জুলাই কানাডা সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং গত ১৫ বছরের মধ্যে ইস্যু করা পাসপোর্টধারীরা অনলাইনে নবায়নের আবেদন করতে পারবেন।
এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা ডিজিটাল ছবি আপলোড করতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন। তবে বর্তমানে বিদেশে বসবাসকারী কানাডীয় নাগরিক এবং ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই সুবিধা চালু হয়নি।
১৮৩টি দেশে সহজ ভ্রমণ
কানাডিয়ান পাসপোর্টধারীরা ইউরোপের অধিকাংশ শেনজেন অঞ্চলে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন ভিসামুক্ত অবস্থান করতে পারেন। এ ছাড়া এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধাও রয়েছে। এমন কয়েকটি দেশেও কানাডিয়ান নাগরিকরা সহজে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আগাম ভিসা প্রয়োজন হয়।
ই-পাসপোর্টে রয়েছে মাইক্রোচিপ
আধুনিক কানাডিয়ান পাসপোর্ট একটি ই-পাসপোর্ট। এর ভেতরে সংযুক্ত মাইক্রোচিপে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং মুখের ডিজিটাল ছবি সংরক্ষিত থাকে। চিপটি প্রায় ১০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থেকে বিশেষ রিডারের মাধ্যমে পড়া যায়। প্রচ্ছদে থাকা বিশেষ প্রতীকটি আন্তর্জাতিক ই-পাসপোর্ট মান পূরণের নির্দেশক।
ভিসা পাতায় চার ঋতুর শিল্পকর্ম
পাসপোর্টের ভিসা পাতাগুলোতে কানাডার চার ঋতুর বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও বসন্তের বন, কোথাও গ্রীষ্মে ক্যানো চালানো, কোথাও শরতের কুমড়া সংগ্রহ কিংবা শীতের তুষারমানব তৈরির চিত্র রয়েছে।
অতিবেগুনি (ইউভি) আলোতে এসব পাতায় অতিরিক্ত রঙ ও গোপন নকশা দৃশ্যমান হয়, যা জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক।
উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি
কানাডিয়ান পাসপোর্টে একাধিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের পাতায় থাকা লাল ম্যাপল পাতার প্রতীক আঙুলের ঘর্ষণে গরম করলে অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রথম দুই পাতায় রঙ পরিবর্তনকারী বিশেষ কালি দিয়ে হরিণ ও তুষারকণার নকশাও সংযুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্যের পাতাটি কাগজের পরিবর্তে পলিকার্বোনেট দিয়ে তৈরি এবং তথ্য লেজার প্রযুক্তিতে খোদাই করা হয়, যা এটিকে আরও টেকসই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধী করে।
কারা কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য যোগ্য?
শুধুমাত্র কানাডার নাগরিকরাই কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া বিল সি-৩ অনুযায়ী, কানাডার বাইরে জন্ম নেওয়া এমন ব্যক্তিরাও নাগরিকত্বের যোগ্য হতে পারেন, যাদের বংশধারায় নিরবচ্ছিন্নভাবে একজন কানাডিয়ান পূর্বপুরুষ রয়েছেন।
পাসপোর্টের আবেদন করার আগে আবেদনকারীকে অবশ্যই কানাডিয়ান নাগরিকত্ব সনদ (Citizenship Certificate) সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমানে এই সনদের আবেদন ডাকযোগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে করতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ১৯ মাস সময় লাগতে পারে, যদিও মামলার জটিলতার ওপর সময় কম বা বেশি হতে পারে।
নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার পর কানাডিয়ান পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করলে নিয়মিত পাসপোর্ট ইস্যু করতে সাধারণত ২০ কার্যদিবস সময় লাগে।














