ঢাকা ০৯:২৪ , Sat, ০৮ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডে নির্ভরশীল ৫৬% মার্কিনি, বাড়ছে ঋণের চাপ

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২১:২২
  • / 2
ফাইল ছবি

লন্ডন, ৮ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা): গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জনপ্রিয় সৈকতে সমুদ্রের পানিতে গোসল করে অসুস্থ হয়ে পড়ার ৭৬৫টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। পরিবেশ ও সামুদ্রিক দূষণবিরোধী সংগঠন সার্ফার্স এগেইনস্ট স্যুয়ারেজের (এসএএস) হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটির ৪০৬টি স্থানে এসব অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসএএসের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে কানের সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব অসুস্থতার কারণে অনেককে কর্মস্থল থেকেও ছুটি নিতে হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

সংগঠনটির হিসাবে, চলতি বছরের অভিযোগের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ১ মে’র পর। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনের বার্ষিক রেকর্ডও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া স্থানগুলোর মধ্যে কয়েকটি ব্লু ফ্ল্যাগ স্বীকৃত সৈকত রয়েছে। পানির মান, পরিচ্ছন্নতা, জীববৈচিত্র্য, নিরাপত্তা ও সহজপ্রাপ্যতার মতো বিষয় বিবেচনায় সাধারণত এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে এসব জনপ্রিয় সৈকতে অসুস্থতার অভিযোগকে ঘিরে পানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এসএএসের হিসাবে, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে বোর্নমাউথ সৈকত থেকে, ১৬টি। ডেভনের ক্রয়ড বে-তে ১৩টি এবং উত্তর কর্নওয়ালের পলজেথে ১২টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওয়েলসের পোর্টকলে রেস্ট বে-তে ১২টি, ডেভনের এক্সমাউথে ১০টি এবং উত্তর কর্নওয়ালের পোর্টরিথে ৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। উত্তর ডেভনের সন্টন স্যান্ডস, ডরসেটের সোয়ানেজ সেন্ট্রাল এবং ওয়েলসের ব্যারির ওগমোর থেকে আটটি করে অভিযোগ এসেছে। উত্তর ডেভনের উলাকম্ব ভিলেজে অভিযোগের সংখ্যা সাতটি।

তবে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সময় হারানোর হিসাব আলাদা। এসএএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্টের সেন্ট মেরিজ বে-তে পানির কারণে অসুস্থ হয়ে মানুষকে মোট ১ হাজার ১৪টি কর্মদিবস হারাতে হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সৈকতগুলোতে পানিদূষণের সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছে এসএএস। সংগঠনটি অপরিশোধিত বা দূষিত পয়োবর্জ্য পানিতে ফেলার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের দূষণ অব্যাহত থাকায় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।

এসএএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪৮৭টি দূষণ ঘটনার রেকর্ড পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার কারণে মানুষের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির পরিমাণ ৪৭ লাখ ঘণ্টায় পৌঁছেছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

এসএএসের প্রচারাভিযানবিষয়ক প্রধান জো মরলি বলেন, পানিতে গোসল বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের পর অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে সংগঠনটির কাছে হাজার হাজার মানুষ অভিযোগ করছেন। তার মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয় না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও কানের সংক্রমণের মতো সমস্যা থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তিনি বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এসএএস আরও দাবি করেছে, পানিতে গোসল বা বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত অসুস্থতার বিষয়ে সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই। পানিতে নামা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা নিয়েও সংগঠনটি প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে ব্রিটেনের সৈকতগুলোতে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। তাপপ্রবাহের সময় অনেকে শরীর ঠান্ডা রাখতে সমুদ্রের পানিতে নামেন। ফলে পানির মান ও দূষণ নিয়ে উদ্বেগ জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত দুই দিক থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে পানিতে দূষণের উপস্থিতি এবং কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার মধ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আরও বৈজ্ঞানিক ও সরকারি তদন্ত প্রয়োজন। এসএএসের অভিযোগ ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

❤️
👏
🙂
😞

নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডে নির্ভরশীল ৫৬% মার্কিনি, বাড়ছে ঋণের চাপ

প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২১:২২

লন্ডন, ৮ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা): গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জনপ্রিয় সৈকতে সমুদ্রের পানিতে গোসল করে অসুস্থ হয়ে পড়ার ৭৬৫টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। পরিবেশ ও সামুদ্রিক দূষণবিরোধী সংগঠন সার্ফার্স এগেইনস্ট স্যুয়ারেজের (এসএএস) হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটির ৪০৬টি স্থানে এসব অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসএএসের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে কানের সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব অসুস্থতার কারণে অনেককে কর্মস্থল থেকেও ছুটি নিতে হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

সংগঠনটির হিসাবে, চলতি বছরের অভিযোগের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ১ মে’র পর। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনের বার্ষিক রেকর্ডও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া স্থানগুলোর মধ্যে কয়েকটি ব্লু ফ্ল্যাগ স্বীকৃত সৈকত রয়েছে। পানির মান, পরিচ্ছন্নতা, জীববৈচিত্র্য, নিরাপত্তা ও সহজপ্রাপ্যতার মতো বিষয় বিবেচনায় সাধারণত এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে এসব জনপ্রিয় সৈকতে অসুস্থতার অভিযোগকে ঘিরে পানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এসএএসের হিসাবে, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে বোর্নমাউথ সৈকত থেকে, ১৬টি। ডেভনের ক্রয়ড বে-তে ১৩টি এবং উত্তর কর্নওয়ালের পলজেথে ১২টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওয়েলসের পোর্টকলে রেস্ট বে-তে ১২টি, ডেভনের এক্সমাউথে ১০টি এবং উত্তর কর্নওয়ালের পোর্টরিথে ৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। উত্তর ডেভনের সন্টন স্যান্ডস, ডরসেটের সোয়ানেজ সেন্ট্রাল এবং ওয়েলসের ব্যারির ওগমোর থেকে আটটি করে অভিযোগ এসেছে। উত্তর ডেভনের উলাকম্ব ভিলেজে অভিযোগের সংখ্যা সাতটি।

তবে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সময় হারানোর হিসাব আলাদা। এসএএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্টের সেন্ট মেরিজ বে-তে পানির কারণে অসুস্থ হয়ে মানুষকে মোট ১ হাজার ১৪টি কর্মদিবস হারাতে হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সৈকতগুলোতে পানিদূষণের সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছে এসএএস। সংগঠনটি অপরিশোধিত বা দূষিত পয়োবর্জ্য পানিতে ফেলার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের দূষণ অব্যাহত থাকায় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।

এসএএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪৮৭টি দূষণ ঘটনার রেকর্ড পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার কারণে মানুষের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির পরিমাণ ৪৭ লাখ ঘণ্টায় পৌঁছেছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

এসএএসের প্রচারাভিযানবিষয়ক প্রধান জো মরলি বলেন, পানিতে গোসল বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের পর অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে সংগঠনটির কাছে হাজার হাজার মানুষ অভিযোগ করছেন। তার মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয় না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও কানের সংক্রমণের মতো সমস্যা থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তিনি বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এসএএস আরও দাবি করেছে, পানিতে গোসল বা বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত অসুস্থতার বিষয়ে সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই। পানিতে নামা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা নিয়েও সংগঠনটি প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে ব্রিটেনের সৈকতগুলোতে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। তাপপ্রবাহের সময় অনেকে শরীর ঠান্ডা রাখতে সমুদ্রের পানিতে নামেন। ফলে পানির মান ও দূষণ নিয়ে উদ্বেগ জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত দুই দিক থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে পানিতে দূষণের উপস্থিতি এবং কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার মধ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আরও বৈজ্ঞানিক ও সরকারি তদন্ত প্রয়োজন। এসএএসের অভিযোগ ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।