ঢাকা ১১:৩১ , Fri, ১১ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডে ভরসা ৫৬% মার্কিনির, বকেয়া ঋণে জর্জরিত ৫৭% মার্কিন নাগরিক

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২১:২২
  • / 66
নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে উঠে এসেছে গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা

ওয়াশিংটন, ৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – জরুরি পরিস্থিতির পরিবর্তে গ্যাস, মুদি পণ্য, শিশুর দেখাশোনা ও ইউটিলিটি বিলের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ মানুষ। ইউএস নিউজের সাম্প্রতিক এক দেশব্যাপী জরিপে মার্কিন নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড নির্ভরতা ও ঋণের চাপের এই চিত্র উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের ৮ থেকে ১১ জুন পিওরস্পেকট্রামের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ জন ভোক্তার ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এতে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ, তা পরিশোধের ধরন এবং কার্ড ব্যবহারের পেছনে মানুষের ব্যয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে ব্যবহার করছেন। বিপরীতে অপ্রত্যাশিত বা জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ অনেক মার্কিনির কাছে ক্রেডিট কার্ড এখন জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা অর্থের বিকল্প হিসেবে দৈনন্দিন ব্যয় সামলানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডে বর্তমানে বকেয়া ঋণ রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশের মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১ থেকে ৬ হাজার ডলারের মধ্যে। ঋণ পরিশোধের ধরনেও বয়সভেদে পার্থক্য দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে ৫৮ শতাংশ গ্রাহক ন্যূনতম প্রদেয় অর্থের চেয়ে বেশি পরিশোধ করছেন। তবে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ ন্যূনতম অর্থ পরিশোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী জেন জি প্রজন্মের ৭০ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের ৫৩ শতাংশ ন্যূনতম প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করছেন। অন্যদিকে জেন এক্স ও বেবি বুমাররা তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন। ঋণ পরিশোধে সময়ও অনেকের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ২২ শতাংশ গ্রাহক জানিয়েছেন, তাদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণের মেয়াদ ছয় মাস থেকে এক বছর। আর ১৯ শতাংশ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঋণ বহন করছেন।

তবে ৭৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক আশা করছেন, তারা তিন বছরের মধ্যে তাদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারবেন। অন্যদিকে প্রায় ১০ শতাংশের আশঙ্কা, তারা হয়তো কখনোই এই ঋণের বোঝা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারবেন না।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, মাসের শেষের খরচ মেটাতে তাদের ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধানও রয়েছে। পুরুষদের ৫২ শতাংশের তুলনায় ৬২ শতাংশ নারী মাসের খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।

গত ১২ মাসে প্রায় ২৭ শতাংশ গ্রাহক তাদের ক্রেডিট কার্ডের নির্ধারিত সীমা পুরোপুরি ব্যবহার করেছেন। আর ১ হাজার ডলারের আকস্মিক জরুরি খরচ সামনে এলে ৫৮ শতাংশ মার্কিনি তা পরিশোধে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই ঋণ জরুরি সঞ্চয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় বাধা।

বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব রয়েছে। ৩৫ শতাংশের ক্ষেত্রে গাড়ি কেনা, ৩১ শতাংশের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং ২৩ শতাংশের ক্ষেত্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনায় ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা জানিয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডে করা কিছু কেনাকাটা নিয়েও অনুশোচনা রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। প্রায় ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, পোশাক, মুদি পণ্য কিংবা ভাড়ার মতো খরচ ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধ করার পর তারা অনুতপ্ত হয়েছেন।

ঋণের চাপের প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে বলে জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এই প্রভাবকে অত্যন্ত গভীর বলে উল্লেখ করেছেন।

❤️
👏
🙂
😞

নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডে ভরসা ৫৬% মার্কিনির, বকেয়া ঋণে জর্জরিত ৫৭% মার্কিন নাগরিক

প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২১:২২

ওয়াশিংটন, ৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – জরুরি পরিস্থিতির পরিবর্তে গ্যাস, মুদি পণ্য, শিশুর দেখাশোনা ও ইউটিলিটি বিলের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ মানুষ। ইউএস নিউজের সাম্প্রতিক এক দেশব্যাপী জরিপে মার্কিন নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড নির্ভরতা ও ঋণের চাপের এই চিত্র উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের ৮ থেকে ১১ জুন পিওরস্পেকট্রামের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ জন ভোক্তার ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এতে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ, তা পরিশোধের ধরন এবং কার্ড ব্যবহারের পেছনে মানুষের ব্যয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে ব্যবহার করছেন। বিপরীতে অপ্রত্যাশিত বা জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ অনেক মার্কিনির কাছে ক্রেডিট কার্ড এখন জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা অর্থের বিকল্প হিসেবে দৈনন্দিন ব্যয় সামলানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডে বর্তমানে বকেয়া ঋণ রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশের মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১ থেকে ৬ হাজার ডলারের মধ্যে। ঋণ পরিশোধের ধরনেও বয়সভেদে পার্থক্য দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে ৫৮ শতাংশ গ্রাহক ন্যূনতম প্রদেয় অর্থের চেয়ে বেশি পরিশোধ করছেন। তবে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ ন্যূনতম অর্থ পরিশোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী জেন জি প্রজন্মের ৭০ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের ৫৩ শতাংশ ন্যূনতম প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করছেন। অন্যদিকে জেন এক্স ও বেবি বুমাররা তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন। ঋণ পরিশোধে সময়ও অনেকের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ২২ শতাংশ গ্রাহক জানিয়েছেন, তাদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণের মেয়াদ ছয় মাস থেকে এক বছর। আর ১৯ শতাংশ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঋণ বহন করছেন।

তবে ৭৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক আশা করছেন, তারা তিন বছরের মধ্যে তাদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারবেন। অন্যদিকে প্রায় ১০ শতাংশের আশঙ্কা, তারা হয়তো কখনোই এই ঋণের বোঝা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারবেন না।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, মাসের শেষের খরচ মেটাতে তাদের ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধানও রয়েছে। পুরুষদের ৫২ শতাংশের তুলনায় ৬২ শতাংশ নারী মাসের খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।

গত ১২ মাসে প্রায় ২৭ শতাংশ গ্রাহক তাদের ক্রেডিট কার্ডের নির্ধারিত সীমা পুরোপুরি ব্যবহার করেছেন। আর ১ হাজার ডলারের আকস্মিক জরুরি খরচ সামনে এলে ৫৮ শতাংশ মার্কিনি তা পরিশোধে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই ঋণ জরুরি সঞ্চয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় বাধা।

বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব রয়েছে। ৩৫ শতাংশের ক্ষেত্রে গাড়ি কেনা, ৩১ শতাংশের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং ২৩ শতাংশের ক্ষেত্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনায় ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা জানিয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডে করা কিছু কেনাকাটা নিয়েও অনুশোচনা রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। প্রায় ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, পোশাক, মুদি পণ্য কিংবা ভাড়ার মতো খরচ ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধ করার পর তারা অনুতপ্ত হয়েছেন।

ঋণের চাপের প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে বলে জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এই প্রভাবকে অত্যন্ত গভীর বলে উল্লেখ করেছেন।