মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী, সালাহউদ্দিনসহ যাদের নাম
- প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯
- / 6
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা): রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। ফলে তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় এসেছে দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম।
মহাসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির অবস্থান চূড়ান্ত করার পাশাপাশি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও তার নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত বা অক্ষম হলে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল নেতা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ কারণে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে প্রাথমিকভাবে রিজভীর নাম সামনে আসতে পারে বলে দলের কয়েকজন নেতা মনে করছেন।
তবে মহাসচিব পদ নিয়ে বিএনপির ভেতরে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, মহাসচিবের দায়িত্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণের সঙ্গেও যুক্ত। এ কারণে স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নীতিনির্ধারণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সহজ হতে পারে। এই বিবেচনায় সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচিত হন। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থায়ীভাবে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের আগে দল কী ধরনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেবে, সেটি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।
রুহুল কবির রিজভী অবশ্য মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার আলোচনার সঙ্গে বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানও যুক্ত রয়েছে। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শনির্ভর। তবে জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বঙ্গভবনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি পদে কে দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলের কঠিন সময়গুলোতে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মধ্যেও তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন হিসেবেও তিনি পরিচিত।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সামনে মহাসচিব পদ পূরণের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসন নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে এবং আইন অনুযায়ী সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি বাবার পক্ষে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তবে তাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জাতীয় কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় মহাসচিব পদে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ মনে করছে। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রুহুল কবির রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন, তা বিএনপির পরবর্তী সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

























