মূল্যস্ফীতির মধ্যেও কমছে না ধনী আমেরিকানদের ভোগব্যয়, শেয়ার বিক্রি করে চালাচ্ছেন খরচ
- প্রকাশঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৩
- / 1
ওয়াশিংটন, ২৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের মানুষের ভোগব্যয় কমছে না। বরং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে তাদের একটি অংশ বিনিয়োগ হিসাব থেকে অর্থ তুলে ব্যাংকের চলতি হিসাবে স্থানান্তর করছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহার করে খরচ চালানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জেপিমরগ্যান চেজ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিনিয়োগ হিসাব থেকে ব্যাংকের চলতি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করেছিলেন ২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশে।
উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আরও স্পষ্ট। ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করতেন। ২০২৬ সালের একই ধরনের হিসাব অনুযায়ী এ হার বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স ও আয়ের সঙ্গে বিনিয়োগের অর্থ খরচে ব্যবহারের প্রবণতারও সম্পর্ক রয়েছে। তুলনামূলক বেশি বয়সী এবং উচ্চ আয়ের মানুষ এ ধরনের অর্থ স্থানান্তরে অন্যদের তুলনায় বেশি সক্রিয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে উচ্চ আয়ের মানুষের ভোগব্যয়ের প্রভাবও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুডিজ অ্যানালিটিকসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষ দেশটির মোট ভোগব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন।
সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত অংশ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। একই সময়ে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ করেছেন মোট ভোগব্যয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উচ্চ আয়ের ও বয়স্ক ভোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাদের হাতে থাকা সম্পদ ও ব্যয়ের সক্ষমতা সামগ্রিক ভোগব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
বিনিয়োগের অর্থ খরচে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার পেছনে দীর্ঘ সময় ধরে শেয়ারবাজারে সম্পদের মূল্য বৃদ্ধিও একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন পরিবার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের নিট মূল্য ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই সম্পদ বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে শেয়ারমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে।
ফলে শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগে সম্পদ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ আয়ের অনেক পরিবারের হাতে নগদ অর্থে রূপান্তরযোগ্য সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। এর একটি অংশ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকির দিকও তৈরি করতে পারে। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হলে বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করার সুযোগ ও আগ্রহ দুটোই কমে যেতে পারে। ২০২২ সালে বাজারে বড় পতনের সময় এ ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগব্যয়ের একটি অংশ এখন আর্থিক বাজারের অবস্থার সঙ্গে আগের তুলনায় বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ছে বলে গবেষণার তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে সম্পদের মূল্য বাড়ার সঙ্গে ভোগব্যয়ও সমর্থন পেতে পারে। বিপরীতে বাজারে বড় পতন হলে সেই প্রভাব ভোগব্যয়েও পড়ার সম্ভাবনা থাকে।


























