ঢাকা ০৬:৫৫ , Sun, ২৭ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
এশিয়া

জাপানে ‘দত্তক ঘর জামাই’ হওয়ার সুযোগ, বাংলাদেশিরাও করতে পারবেন আবেদন

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২১
  • / 5
জাপানে ‘মুকোয়োশি’ প্রথায় মেয়ের স্বামীকে পরিবারের আইনগত সন্তান হিসেবে দত্তক নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

টোকিও, ২৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাপানে বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকে পরিবারের আইনগত সন্তান হিসেবে দত্তক নেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় জামাই স্ত্রীর পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট শর্তে পরিবারের সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকারীও হতে পারেন। জাপানি পরিবারের এই দত্তক ব্যবস্থায় বিদেশিরাও নির্ধারিত আইনি শর্ত পূরণ করলে অংশ নিতে পারেন।

জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে কোনো পরিবারে ছেলে উত্তরাধিকারী না থাকলে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা দেখা যায়। পারিবারিক ব্যবসা বা সম্পত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এ ধরনের দত্তক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

‘মুকোয়োশি’ মূলত এমন একজন জামাইকে বোঝায়, যাকে স্ত্রীর বাবা-মা আইনগতভাবে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি সাধারণ ঘরজামাই থাকার ব্যবস্থা থেকে আলাদা। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তি আইনগতভাবে ওই পরিবারের সন্তান হিসেবে বিবেচিত হন এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকার তৈরি হতে পারে।

সাধারণত বিয়ের আগে অথবা বিয়ের পর এই দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দত্তক নেওয়ার পর জামাই স্ত্রীর পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবারটির নিজস্ব ব্যবসা থাকলে পরবর্তী সময়ে সেটির পরিচালনা ও উত্তরাধিকারও তাঁর হাতে যেতে পারে।

এই ব্যবস্থার পেছনে জাপানের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশটির বহু পুরোনো পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হিসেবে রক্তের সম্পর্কের সন্তানকে বেছে নেওয়ার পরিবর্তে উপযুক্ত কাউকে পরিবারের অংশ করে নেওয়ার নজির রয়েছে। এর ফলে পারিবারিক পদবি ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও জাপানের আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশিসহ অন্য দেশের নাগরিকও প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হতে পারেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুকোয়োশি হিসেবে দত্তক নেওয়া হলেও এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। একইভাবে দত্তক গ্রহণের কারণে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও নিশ্চিত হয় না। নাগরিকত্ব বা বসবাসের অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট পৃথক অভিবাসন ও নাগরিকত্বের নিয়ম পূরণ করতে হয়।

অর্থাৎ, মুকোয়োশি ব্যবস্থা মূলত জাপানের পরিবার ও উত্তরাধিকার কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইনি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন জামাই স্ত্রীর পরিবারের আইনগত সন্তান ও উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিদেশিদের ক্ষেত্রে দত্তক গ্রহণ, নাগরিকত্ব এবং বসবাসের অধিকারকে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

❤️
👏
🙂
😞

জাপানে ‘দত্তক ঘর জামাই’ হওয়ার সুযোগ, বাংলাদেশিরাও করতে পারবেন আবেদন

প্রকাশঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২১

টোকিও, ২৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাপানে বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকে পরিবারের আইনগত সন্তান হিসেবে দত্তক নেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় জামাই স্ত্রীর পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট শর্তে পরিবারের সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকারীও হতে পারেন। জাপানি পরিবারের এই দত্তক ব্যবস্থায় বিদেশিরাও নির্ধারিত আইনি শর্ত পূরণ করলে অংশ নিতে পারেন।

জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে কোনো পরিবারে ছেলে উত্তরাধিকারী না থাকলে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা দেখা যায়। পারিবারিক ব্যবসা বা সম্পত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এ ধরনের দত্তক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

‘মুকোয়োশি’ মূলত এমন একজন জামাইকে বোঝায়, যাকে স্ত্রীর বাবা-মা আইনগতভাবে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি সাধারণ ঘরজামাই থাকার ব্যবস্থা থেকে আলাদা। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তি আইনগতভাবে ওই পরিবারের সন্তান হিসেবে বিবেচিত হন এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকার তৈরি হতে পারে।

সাধারণত বিয়ের আগে অথবা বিয়ের পর এই দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দত্তক নেওয়ার পর জামাই স্ত্রীর পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবারটির নিজস্ব ব্যবসা থাকলে পরবর্তী সময়ে সেটির পরিচালনা ও উত্তরাধিকারও তাঁর হাতে যেতে পারে।

এই ব্যবস্থার পেছনে জাপানের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশটির বহু পুরোনো পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হিসেবে রক্তের সম্পর্কের সন্তানকে বেছে নেওয়ার পরিবর্তে উপযুক্ত কাউকে পরিবারের অংশ করে নেওয়ার নজির রয়েছে। এর ফলে পারিবারিক পদবি ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও জাপানের আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশিসহ অন্য দেশের নাগরিকও প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হতে পারেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুকোয়োশি হিসেবে দত্তক নেওয়া হলেও এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। একইভাবে দত্তক গ্রহণের কারণে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও নিশ্চিত হয় না। নাগরিকত্ব বা বসবাসের অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট পৃথক অভিবাসন ও নাগরিকত্বের নিয়ম পূরণ করতে হয়।

অর্থাৎ, মুকোয়োশি ব্যবস্থা মূলত জাপানের পরিবার ও উত্তরাধিকার কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইনি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন জামাই স্ত্রীর পরিবারের আইনগত সন্তান ও উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিদেশিদের ক্ষেত্রে দত্তক গ্রহণ, নাগরিকত্ব এবং বসবাসের অধিকারকে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।