ঢাকা ০৬:৩৩ , Sat, ২৯ Aug ২০২৬

রাশিয়ার পারমাণবিক জাহাজে করে উত্তর মেরু গিয়েছিল রাজশাহীর স্কুলপড়ুয়া প্রত্যয়

মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়
  • প্রকাশঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯
  • / 6
উত্তর মেরুর পথে পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে মালেকুল সালেহীন প্রত্যয় ছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

মুরমানস্ক, ২৯ আগস্ট (প্রজন্ম কথা) – রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরু ঘুরে এসেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থার ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এই অভিযানে অংশ নেয় সে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত আরও ২১ জন স্কুলশিক্ষার্থীর সঙ্গে উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নেয় প্রত্যয়।

ঢাকা থেকে গত ১ আগস্ট মস্কোয় পৌঁছানোর পর পরদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফ্লাইটে প্রত্যয় ও অন্য অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার উত্তরের বন্দরনগরী মুরমানস্কে যান। উত্তর মেরু যাত্রার আগে ৩ আগস্ট তাঁদের মুরমানস্ক ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে তখন চলছিল মেরু দিবস। সূর্য অস্ত না যাওয়ায় গভীর রাতেও চারপাশে দিনের মতো আলো ছিল।

রাশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে চেপেই উত্তর মেরু ঘুরে এসেছে প্রত্যয়ের মতো স্কুলপড়ুয়ারা
রাশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে চেপেই উত্তর মেরু ঘুরে এসেছে প্রত্যয়ের মতো স্কুলপড়ুয়ারাছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

৪ আগস্ট সকালে তাঁদের বন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে আইসব্রেকারের পাশাপাশি কয়েকটি যুদ্ধজাহাজও দেখতে পান তাঁরা। এলাকাটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় রাশিয়ার নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। কয়েক ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একে একে শিক্ষার্থীদের জাহাজে তোলা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকেরা পরে হোটেলে ফিরে যান। প্রত্যয়ের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা।

জাহাজে ওঠার পর প্রথম ঘণ্টাখানেক ভালোই কেটেছিল। পুরো জাহাজ ঘুরিয়ে দেখিয়ে কোথায় কী আছে, কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, তা জানানো হয়। এরপর নোঙর তুলে উত্তর মেরুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহাজ।

তবে যাত্রার কয়েক ঘণ্টা পরই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। শুরু হয় প্রচণ্ড দুলুনি, ঝড় ও উত্তাল সমুদ্র। বড় বড় ঢেউয়ে জাহাজের দুলুনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রত্যয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অনেকেই সাগরযাত্রাজনিত অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেন। প্রথম দুই দিন বমি ও অসুস্থতার কারণে খাবারও ঠিকমতো খেতে পারেননি তিনি।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

ধীরে ধীরে জাহাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন প্রত্যয়। প্রতিদিন সকালে শরীরচর্চা দিয়ে শুরু হতো দিন। এরপর নাশতা শেষে সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সেশন চলত। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান, পারমাণবিক বিজ্ঞান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্রীড়া ও অলিম্পিকসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা।

মেরু অঞ্চলে সূর্য অস্ত না যাওয়ায় সময়ের অনুভূতিও ছিল ভিন্ন। স্থানীয় সময়ের তুলনায় প্রায় দুই ঘণ্টা এগিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করতেন তাঁরা। রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার পর গভীর রাতে ঘুম ভেঙে বাইরে তাকালেও দিনের মতো আলো দেখা যেত। প্রথম দিকে বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর লাগত।

জাহাজে ওঠার তিন থেকে চার দিন পর প্রথম বরফ দেখতে পান প্রত্যয়। সেদিনই জাহাজের আশপাশে দুটি মেরু ভালুক দেখা যায়। তবে তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় নিজের চোখে প্রাণী দুটিকে দেখতে পারেননি। পরে ছবি ও ভিডিওতে সেগুলো দেখেন। জাহাজের ভেতরে স্বাভাবিক উষ্ণতা থাকলেও বাইরে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। জাহাজের ওপরের অংশে হেলিপ্যাডের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে বরফে ঘেরা পরিবেশ উপভোগ ও ছবি তুলতেন তাঁরা।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে প্রত্যয়
বাংলাদেশের পতাকা হাতে প্রত্যয়ছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

অভিযানের অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গেও ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে প্রত্যয়ের। তাঁর রুমমেট ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার। ভারত ও মিয়ানমারসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

৭ আগস্ট সকালে তাঁরা উত্তর মেরুর কাছাকাছি পৌঁছান। তখন বরফের স্তর তুলনামূলক পাতলা থাকায় কোথায় নামা নিরাপদ হবে, তা খুঁজে দেখছিলেন আয়োজকেরা। পরে বিকেলে অপেক্ষাকৃত পুরু বরফের একটি জায়গায় তাঁদের নামানো হয়।

সেখানে বরফের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেন প্রত্যয়। তাঁর ভাষায়, সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল তিনি একা নন, তাঁর দেশও তাঁর সঙ্গে উত্তর মেরুতে দাঁড়িয়ে আছে।

৮ আগস্ট উত্তর মেরু থেকে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এরপর আবার আগের নিয়মে চলতে থাকে জাহাজের জীবন। সেমিনার, খাওয়াদাওয়া, বিশ্রাম আর বাইরে বরফ ও পানিতে ঘেরা পরিবেশের মধ্য দিয়ে কেটে যায় ফেরার দিনগুলো।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া রুশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া রুশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গেছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

এই যাত্রায় আরেকটি ঘটনা বিশেষভাবে মনে দাগ কাটে প্রত্যয়ের। ১২ আগস্ট তিনি এক রুশ বিশেষজ্ঞকে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত টি-শার্ট পরা অবস্থায় দেখতে পান। কথা বলে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে তাঁর অনেক বন্ধু তৈরি হয়েছে। এমনকি একটি গ্রামের বিয়েতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। নিজের মুঠোফোনে সেই বিয়ের ছবিও প্রত্যয়কে দেখান।

বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও তাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শুনে আনন্দিত হন প্রত্যয়। পরে দুজন একসঙ্গে ছবিও তোলেন। পৃথিবীর এত দূরে একজন রুশ বিশেষজ্ঞকে বাংলাদেশের জার্সি পরে দেখে গর্ব অনুভব করেন তিনি।

ফেরার পথে আগের মতো সাগরযাত্রাজনিত অসুস্থতা হয়নি। ১৩ আগস্ট আবার মুরমানস্ক বন্দরে পা রাখেন প্রত্যয়। রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে উত্তর মেরু ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতা তাঁর স্কুলজীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।

❤️
👏
🙂
😞

রাশিয়ার পারমাণবিক জাহাজে করে উত্তর মেরু গিয়েছিল রাজশাহীর স্কুলপড়ুয়া প্রত্যয়

প্রকাশঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯

মুরমানস্ক, ২৯ আগস্ট (প্রজন্ম কথা) – রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরু ঘুরে এসেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থার ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এই অভিযানে অংশ নেয় সে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত আরও ২১ জন স্কুলশিক্ষার্থীর সঙ্গে উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নেয় প্রত্যয়।

ঢাকা থেকে গত ১ আগস্ট মস্কোয় পৌঁছানোর পর পরদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফ্লাইটে প্রত্যয় ও অন্য অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার উত্তরের বন্দরনগরী মুরমানস্কে যান। উত্তর মেরু যাত্রার আগে ৩ আগস্ট তাঁদের মুরমানস্ক ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে তখন চলছিল মেরু দিবস। সূর্য অস্ত না যাওয়ায় গভীর রাতেও চারপাশে দিনের মতো আলো ছিল।

রাশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে চেপেই উত্তর মেরু ঘুরে এসেছে প্রত্যয়ের মতো স্কুলপড়ুয়ারা
রাশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে চেপেই উত্তর মেরু ঘুরে এসেছে প্রত্যয়ের মতো স্কুলপড়ুয়ারাছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

৪ আগস্ট সকালে তাঁদের বন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে আইসব্রেকারের পাশাপাশি কয়েকটি যুদ্ধজাহাজও দেখতে পান তাঁরা। এলাকাটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় রাশিয়ার নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। কয়েক ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একে একে শিক্ষার্থীদের জাহাজে তোলা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকেরা পরে হোটেলে ফিরে যান। প্রত্যয়ের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা।

জাহাজে ওঠার পর প্রথম ঘণ্টাখানেক ভালোই কেটেছিল। পুরো জাহাজ ঘুরিয়ে দেখিয়ে কোথায় কী আছে, কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, তা জানানো হয়। এরপর নোঙর তুলে উত্তর মেরুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহাজ।

তবে যাত্রার কয়েক ঘণ্টা পরই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। শুরু হয় প্রচণ্ড দুলুনি, ঝড় ও উত্তাল সমুদ্র। বড় বড় ঢেউয়ে জাহাজের দুলুনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রত্যয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অনেকেই সাগরযাত্রাজনিত অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেন। প্রথম দুই দিন বমি ও অসুস্থতার কারণে খাবারও ঠিকমতো খেতে পারেননি তিনি।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

ধীরে ধীরে জাহাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন প্রত্যয়। প্রতিদিন সকালে শরীরচর্চা দিয়ে শুরু হতো দিন। এরপর নাশতা শেষে সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সেশন চলত। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান, পারমাণবিক বিজ্ঞান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্রীড়া ও অলিম্পিকসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা।

মেরু অঞ্চলে সূর্য অস্ত না যাওয়ায় সময়ের অনুভূতিও ছিল ভিন্ন। স্থানীয় সময়ের তুলনায় প্রায় দুই ঘণ্টা এগিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করতেন তাঁরা। রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার পর গভীর রাতে ঘুম ভেঙে বাইরে তাকালেও দিনের মতো আলো দেখা যেত। প্রথম দিকে বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর লাগত।

জাহাজে ওঠার তিন থেকে চার দিন পর প্রথম বরফ দেখতে পান প্রত্যয়। সেদিনই জাহাজের আশপাশে দুটি মেরু ভালুক দেখা যায়। তবে তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় নিজের চোখে প্রাণী দুটিকে দেখতে পারেননি। পরে ছবি ও ভিডিওতে সেগুলো দেখেন। জাহাজের ভেতরে স্বাভাবিক উষ্ণতা থাকলেও বাইরে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। জাহাজের ওপরের অংশে হেলিপ্যাডের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে বরফে ঘেরা পরিবেশ উপভোগ ও ছবি তুলতেন তাঁরা।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে প্রত্যয়
বাংলাদেশের পতাকা হাতে প্রত্যয়ছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

অভিযানের অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গেও ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে প্রত্যয়ের। তাঁর রুমমেট ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার। ভারত ও মিয়ানমারসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

৭ আগস্ট সকালে তাঁরা উত্তর মেরুর কাছাকাছি পৌঁছান। তখন বরফের স্তর তুলনামূলক পাতলা থাকায় কোথায় নামা নিরাপদ হবে, তা খুঁজে দেখছিলেন আয়োজকেরা। পরে বিকেলে অপেক্ষাকৃত পুরু বরফের একটি জায়গায় তাঁদের নামানো হয়।

সেখানে বরফের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেন প্রত্যয়। তাঁর ভাষায়, সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল তিনি একা নন, তাঁর দেশও তাঁর সঙ্গে উত্তর মেরুতে দাঁড়িয়ে আছে।

৮ আগস্ট উত্তর মেরু থেকে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এরপর আবার আগের নিয়মে চলতে থাকে জাহাজের জীবন। সেমিনার, খাওয়াদাওয়া, বিশ্রাম আর বাইরে বরফ ও পানিতে ঘেরা পরিবেশের মধ্য দিয়ে কেটে যায় ফেরার দিনগুলো।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া রুশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া রুশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গেছবি: মালেকুল সালেহীনের সৌজন্যে

এই যাত্রায় আরেকটি ঘটনা বিশেষভাবে মনে দাগ কাটে প্রত্যয়ের। ১২ আগস্ট তিনি এক রুশ বিশেষজ্ঞকে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত টি-শার্ট পরা অবস্থায় দেখতে পান। কথা বলে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে তাঁর অনেক বন্ধু তৈরি হয়েছে। এমনকি একটি গ্রামের বিয়েতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। নিজের মুঠোফোনে সেই বিয়ের ছবিও প্রত্যয়কে দেখান।

বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও তাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শুনে আনন্দিত হন প্রত্যয়। পরে দুজন একসঙ্গে ছবিও তোলেন। পৃথিবীর এত দূরে একজন রুশ বিশেষজ্ঞকে বাংলাদেশের জার্সি পরে দেখে গর্ব অনুভব করেন তিনি।

ফেরার পথে আগের মতো সাগরযাত্রাজনিত অসুস্থতা হয়নি। ১৩ আগস্ট আবার মুরমানস্ক বন্দরে পা রাখেন প্রত্যয়। রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে উত্তর মেরু ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতা তাঁর স্কুলজীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।