ঢাকা ১২:৪৪ , Thu, ১০ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা, ২৮ দিনের অর্থের প্রমাণে যে ভুলে জটিলতা হতে পারে

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২
  • / 4
ফাইল ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নিশ্চিত হয়ে সিএএস পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ, নির্ধারিত সময় ধরে ব্যাংক হিসাবে অর্থ থাকা, ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা, যক্ষ্মা পরীক্ষার সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিক প্রমাণের ক্ষেত্রে নিয়ম না মানলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে।

সিএএস বা ‘কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ’ হলো যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট রেফারেন্স নম্বর, যা ভিসা আবেদনে ব্যবহার করতে হয়। সিএএস ছাড়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করা যায় না। তবে সিএএস ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। বর্তমানে সিএএস ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ভিসার আবেদন করতে হয়। আর যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আবেদন করলে কোর্স শুরুর সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে আবেদন করা যায়।

ব্যাংকে কত টাকা থাকতে হবে

আবেদনকারীকে সাধারণত প্রথম শিক্ষাবর্ষের বকেয়া টিউশন ফি এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাপনের খরচ চালানোর মতো অর্থের প্রমাণ দিতে হয়। টিউশন ফির পরিমাণ সিএএসে উল্লেখ থাকে। বর্তমানে লন্ডনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে জীবনযাপনের জন্য প্রতি মাসে ১,৫২৯ পাউন্ড, সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য অর্থাৎ ১৩,৭৬১ পাউন্ড দেখাতে হয়। লন্ডনের বাইরে প্রতি মাসে ১,১৭১ পাউন্ড, সর্বোচ্চ নয় মাসে ১০,৫৩৯ পাউন্ড প্রয়োজন। এর সঙ্গে প্রযোজ্য বকেয়া টিউশন ফি যোগ হবে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২৮ দিনের নিয়ম। প্রয়োজনীয় অর্থ টানা অন্তত ২৮ দিন ব্যাংক হিসাবে থাকতে হবে। ব্যাংকের নথিতে যে ২৮ দিনের সময়সীমা দেখানো হবে, তার শেষ তারিখ ভিসার আবেদনের তারিখের সর্বোচ্চ ৩১ দিন আগের হতে পারবে। অর্থাৎ আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় অর্থের প্রমাণটি এই সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

এই অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাব ছাড়াও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাবা-মা বা সঙ্গীর নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হিসাব, শিক্ষাঋণ, সরকারি বা অনুমোদিত আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। বাবা-মায়ের অর্থ ব্যবহার করলে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে ব্যাংকের সঙ্গে তথ্য যাচাই করতে পারে।

ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা

স্টুডেন্ট ভিসায় ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার ক্ষেত্রে সবার জন্য নির্দিষ্ট একটি আইইএলটিএস স্কোর বাধ্যতামূলক নয়। ডিগ্রি পর্যায়ের বা তার ওপরের পড়াশোনার জন্য সাধারণত সিইএফআর বি২ এবং ডিগ্রির নিচের কোর্সের জন্য বি১ পর্যায়ের ইংরেজি দক্ষতা প্রয়োজন। অনুমোদিত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজিতে পড়ানো আগের ডিগ্রি বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূল্যায়নের মাধ্যমেও যোগ্যতা প্রমাণ করা যায়। তাই ‘আইইএলটিএসে ৫.৫ থেকে ৬.০ পেলেই হবে’ এমন একটি সাধারণ নিয়ম সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যক্ষ্মা পরীক্ষা

বাংলাদেশ থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে হলে নির্দিষ্ট শর্তে যক্ষ্মা পরীক্ষা বা টিবি টেস্ট প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ এই পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একটি। পরীক্ষাটি যুক্তরাজ্য সরকারের অনুমোদিত ক্লিনিক থেকে করাতে হবে। পরীক্ষায় যক্ষ্মা না থাকলে পাওয়া সনদ সাধারণত ছয় মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে।

ভিসা ফি ও স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ

৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ৫৫৮ পাউন্ড। শিক্ষার্থীদের জন্য ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ বা আইএইচএসের হার প্রতি বছর ৭৭৬ পাউন্ড। তবে কোনো দুই বছরের মাস্টার্স কোর্সে মোট আইএইচএস ঠিক ১,৫৫২ পাউন্ড হবে এমন নয়, কারণ আইএইচএস হিসাব করা হয় অনুমোদিত ভিসার মোট মেয়াদের ভিত্তিতে। উদাহরণ হিসেবে, ১২ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সে কোর্স শেষ হওয়ার পর সাধারণত চার মাসের অতিরিক্ত ভিসা দেওয়া হয়, ফলে আইএইচএসের হিসাবও সেই মেয়াদ অনুযায়ী হয়। চূড়ান্ত অঙ্ক আবেদন করার সময় নির্ধারিত হবে।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ

ডিগ্রি পর্যায়ের পূর্ণকালীন কোর্সে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাধারণত ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকতে পারে। তবে কোর্সের স্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী কাজের অনুমতিতে পার্থক্য রয়েছে। ডিগ্রির নিচের কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টার সীমা ১০ ঘণ্টা হতে পারে। তাই ভিসা পাওয়ার পর নিজের ভিসার শর্ত দেখে কাজ শুরু করা জরুরি।

পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম

১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হওয়া অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে সঙ্গে নিতে পারেন না। বর্তমানে নির্দিষ্ট সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নির্ভরশীল সদস্য আনতে পারেন। ২০২৪ সালের পর শুরু হওয়া স্নাতকোত্তর কোর্সের ক্ষেত্রে কোর্সটি পিএইচডি বা অন্য ডক্টরেট, অথবা গবেষণাভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রি হতে হবে।

আবেদনের আগে যা যাচাই করবেন

ভিসা আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়টি যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত শিক্ষার্থী স্পনসর কি না, সিএএসের তথ্য সঠিক কি না, টিউশন ফি ও জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব ঠিক আছে কি না এবং ব্যাংকের নথিতে ২৮ দিনের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি নিজের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার প্রমাণ, টিবি সনদ, প্রয়োজন হলে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রযুক্তি অনুমোদন সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে স্টুডেন্ট ভিসার সিদ্ধান্ত সাধারণত তিন সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা। তবে অতিরিক্ত যাচাই বা অন্য কোনো কারণে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই শুধু এজেন্সির দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে আবেদন করা উচিত।

❤️
👏
🙂
😞

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা, ২৮ দিনের অর্থের প্রমাণে যে ভুলে জটিলতা হতে পারে

প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২

লন্ডন, ১০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নিশ্চিত হয়ে সিএএস পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ, নির্ধারিত সময় ধরে ব্যাংক হিসাবে অর্থ থাকা, ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা, যক্ষ্মা পরীক্ষার সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিক প্রমাণের ক্ষেত্রে নিয়ম না মানলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে।

সিএএস বা ‘কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ’ হলো যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট রেফারেন্স নম্বর, যা ভিসা আবেদনে ব্যবহার করতে হয়। সিএএস ছাড়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করা যায় না। তবে সিএএস ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। বর্তমানে সিএএস ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ভিসার আবেদন করতে হয়। আর যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আবেদন করলে কোর্স শুরুর সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে আবেদন করা যায়।

ব্যাংকে কত টাকা থাকতে হবে

আবেদনকারীকে সাধারণত প্রথম শিক্ষাবর্ষের বকেয়া টিউশন ফি এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাপনের খরচ চালানোর মতো অর্থের প্রমাণ দিতে হয়। টিউশন ফির পরিমাণ সিএএসে উল্লেখ থাকে। বর্তমানে লন্ডনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে জীবনযাপনের জন্য প্রতি মাসে ১,৫২৯ পাউন্ড, সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য অর্থাৎ ১৩,৭৬১ পাউন্ড দেখাতে হয়। লন্ডনের বাইরে প্রতি মাসে ১,১৭১ পাউন্ড, সর্বোচ্চ নয় মাসে ১০,৫৩৯ পাউন্ড প্রয়োজন। এর সঙ্গে প্রযোজ্য বকেয়া টিউশন ফি যোগ হবে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২৮ দিনের নিয়ম। প্রয়োজনীয় অর্থ টানা অন্তত ২৮ দিন ব্যাংক হিসাবে থাকতে হবে। ব্যাংকের নথিতে যে ২৮ দিনের সময়সীমা দেখানো হবে, তার শেষ তারিখ ভিসার আবেদনের তারিখের সর্বোচ্চ ৩১ দিন আগের হতে পারবে। অর্থাৎ আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় অর্থের প্রমাণটি এই সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

এই অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাব ছাড়াও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাবা-মা বা সঙ্গীর নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হিসাব, শিক্ষাঋণ, সরকারি বা অনুমোদিত আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। বাবা-মায়ের অর্থ ব্যবহার করলে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে ব্যাংকের সঙ্গে তথ্য যাচাই করতে পারে।

ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা

স্টুডেন্ট ভিসায় ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার ক্ষেত্রে সবার জন্য নির্দিষ্ট একটি আইইএলটিএস স্কোর বাধ্যতামূলক নয়। ডিগ্রি পর্যায়ের বা তার ওপরের পড়াশোনার জন্য সাধারণত সিইএফআর বি২ এবং ডিগ্রির নিচের কোর্সের জন্য বি১ পর্যায়ের ইংরেজি দক্ষতা প্রয়োজন। অনুমোদিত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজিতে পড়ানো আগের ডিগ্রি বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূল্যায়নের মাধ্যমেও যোগ্যতা প্রমাণ করা যায়। তাই ‘আইইএলটিএসে ৫.৫ থেকে ৬.০ পেলেই হবে’ এমন একটি সাধারণ নিয়ম সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যক্ষ্মা পরীক্ষা

বাংলাদেশ থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে হলে নির্দিষ্ট শর্তে যক্ষ্মা পরীক্ষা বা টিবি টেস্ট প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ এই পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একটি। পরীক্ষাটি যুক্তরাজ্য সরকারের অনুমোদিত ক্লিনিক থেকে করাতে হবে। পরীক্ষায় যক্ষ্মা না থাকলে পাওয়া সনদ সাধারণত ছয় মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে।

ভিসা ফি ও স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ

৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ৫৫৮ পাউন্ড। শিক্ষার্থীদের জন্য ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ বা আইএইচএসের হার প্রতি বছর ৭৭৬ পাউন্ড। তবে কোনো দুই বছরের মাস্টার্স কোর্সে মোট আইএইচএস ঠিক ১,৫৫২ পাউন্ড হবে এমন নয়, কারণ আইএইচএস হিসাব করা হয় অনুমোদিত ভিসার মোট মেয়াদের ভিত্তিতে। উদাহরণ হিসেবে, ১২ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সে কোর্স শেষ হওয়ার পর সাধারণত চার মাসের অতিরিক্ত ভিসা দেওয়া হয়, ফলে আইএইচএসের হিসাবও সেই মেয়াদ অনুযায়ী হয়। চূড়ান্ত অঙ্ক আবেদন করার সময় নির্ধারিত হবে।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ

ডিগ্রি পর্যায়ের পূর্ণকালীন কোর্সে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাধারণত ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকতে পারে। তবে কোর্সের স্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী কাজের অনুমতিতে পার্থক্য রয়েছে। ডিগ্রির নিচের কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টার সীমা ১০ ঘণ্টা হতে পারে। তাই ভিসা পাওয়ার পর নিজের ভিসার শর্ত দেখে কাজ শুরু করা জরুরি।

পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম

১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হওয়া অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে সঙ্গে নিতে পারেন না। বর্তমানে নির্দিষ্ট সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নির্ভরশীল সদস্য আনতে পারেন। ২০২৪ সালের পর শুরু হওয়া স্নাতকোত্তর কোর্সের ক্ষেত্রে কোর্সটি পিএইচডি বা অন্য ডক্টরেট, অথবা গবেষণাভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রি হতে হবে।

আবেদনের আগে যা যাচাই করবেন

ভিসা আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়টি যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত শিক্ষার্থী স্পনসর কি না, সিএএসের তথ্য সঠিক কি না, টিউশন ফি ও জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব ঠিক আছে কি না এবং ব্যাংকের নথিতে ২৮ দিনের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি নিজের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার প্রমাণ, টিবি সনদ, প্রয়োজন হলে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রযুক্তি অনুমোদন সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে স্টুডেন্ট ভিসার সিদ্ধান্ত সাধারণত তিন সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা। তবে অতিরিক্ত যাচাই বা অন্য কোনো কারণে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই শুধু এজেন্সির দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে আবেদন করা উচিত।