আমেরিকায় ভোটার হতে কী কী লাগে? যে ৫ কারণে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে
- প্রকাশঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৬
- / 2
ওয়াশিংটন, ২৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব অন্যতম প্রধান শর্ত। গ্রিন কার্ডধারীসহ অ-নাগরিকরা ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য এবং অধিকাংশ স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্বের পাশাপাশি বয়স, বসবাসের শর্ত এবং ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা।
নতুন নাগরিকদের অনেকেই নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় হলো:
১. যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে
ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। অঙ্গরাজ্য ও অধিকাংশ স্থানীয় নির্বাচনেও অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু স্থানীয় এলাকায় অ-নাগরিকদের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আলাদা বিধান থাকতে পারে।
ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আগে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। ভোট ডট গভ-এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিক হওয়ার আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করলে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই নাগরিকত্বের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পরই ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
২. বয়স ও বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে
সাধারণভাবে নির্বাচনের দিন বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ১৮ বছর হওয়ার আগেই ভোটার হিসেবে আগাম নিবন্ধন করা যায়, যদি নির্বাচনের দিন নাগরিকের বয়স ১৮ বছর হয়। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ১৭ বছর বয়সীদের প্রাথমিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগও রয়েছে, যদি তারা সাধারণ নির্বাচনের আগে ১৮ বছর পূর্ণ করে।
এর পাশাপাশি যে অঙ্গরাজ্যে ভোট দেবেন, সেই অঙ্গরাজ্যের আবাসিক শর্ত পূরণ করতে হবে। কতদিন সেখানে বসবাস করতে হবে, সেটিও অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা।
উদাহরণ হিসেবে নিউইয়র্কে নির্বাচনের অন্তত ৩০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য এবং কাউন্টি, সিটি বা গ্রামের বাসিন্দা হতে হয়। সেখানে ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে আগাম নিবন্ধন করা গেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ভোট দেওয়া যায় না।
৩. ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধনের কোনো একক জাতীয় সময়সীমা নেই। অঙ্গরাজ্যভেদে শেষ তারিখ আলাদা। কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের ৩০ দিন আগে নিবন্ধন শেষ হয়, আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। নর্থ ডাকোটায় সাধারণ ভোটার নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই।
অনেক অঙ্গরাজ্যে অনলাইনে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্বাচন অফিসে নিবন্ধন করা যায়। ভোটার নিবন্ধনের সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করতে ভোট ডট গভ-এ গিয়ে নিজের অঙ্গরাজ্য নির্বাচন করা যায়।
নিউইয়র্কে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের জন্য ভোটার নিবন্ধনের আবেদন ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নির্বাচন বোর্ডে পৌঁছাতে হবে।
অন্যদিকে টেক্সাসে বর্তমানে অনলাইনে সরাসরি ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেই। ডাকযোগে পাঠানো আবেদন নির্বাচনের ৩০ দিন আগে পোস্টমার্ক করতে হয়। সরাসরি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নির্বাচনের ৩০ দিন আগে সময়সীমা শেষ হয়।
৪. পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে
ভোটার নিবন্ধনের সময় নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানাসহ নির্দিষ্ট পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়। কোন নথি বা নম্বর প্রয়োজন হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা।
অনেক ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যায়। এগুলো না থাকলে কিছু অঙ্গরাজ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ইউটিলিটি বিল বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কে ভোটার নিবন্ধনের সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অ-চালক পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করা যায়। তা না থাকলে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের শেষ চার সংখ্যাও দেওয়া যায়। দুটির কোনোটিই না থাকলে বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতনপত্র বা সরকারি নথির মতো বিকল্প প্রমাণ দেওয়া যায়।
তবে ভোটার নিবন্ধনের সময় কী তথ্য বা নথি লাগবে এবং ভোট দেওয়ার দিন কী ধরনের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে, দুটি বিষয় এক নয়। ভোট দেওয়ার সময় পরিচয়পত্রের নিয়মও অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে ছবি-সহ পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়, আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে পরিচয় নিশ্চিত করার অন্য ব্যবস্থা রয়েছে।
৫. ফৌজদারি সাজা ও অন্যান্য অযোগ্যতার নিয়ম জানতে হবে
ফেলনি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির ভোটাধিকার পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একই নিয়মে নিয়ন্ত্রিত হয় না। অঙ্গরাজ্যভেদে কারাবন্দি থাকা, সাজা শেষ হওয়া বা মুক্তির পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার নিয়ম আলাদা। তাই এ বিষয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের আইন যাচাই করা জরুরি।
মানসিক সক্ষমতা সম্পর্কিত বিধিও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে নিউইয়র্কে আদালত কর্তৃক মানসিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের যোগ্য নন। একই সঙ্গে সেখানে ফেলনি অপরাধে কারাগারে থাকা ব্যক্তিও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারেন না।
গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গ্রিন কার্ড থাকা মানেই ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়া নয়। ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য এবং অধিকাংশ স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রয়োজন। নাগরিক হওয়ার আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা উচিত নয়। সরকারি ভোটার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নাগরিক হওয়ার আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করলে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
তবে কিছু স্থানীয় এলাকায় অ-নাগরিকদের জন্য আলাদা ভোটের বিধান থাকতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম যাচাই করা জরুরি।





























