ঢাকা ১০:৪৪ , Thu, ০১ Oct ২০২৬

অসুস্থ ব্যক্তি ইশারায়ও নামাজ পড়তে না পারলে কী করবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮
  • / 5
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নামাজ আদায়ের পদ্ধতি ও ইশারায় নামাজ পড়তে না পারার ক্ষেত্রে বিধান। ছবি: সংগৃহীত

১ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – নামাজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। অসুস্থতার কারণে একজন মুসলিম স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে না পারলেও সামর্থ্য অনুযায়ী বসে বা শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। এমনকি বসাও সম্ভব না হলে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অসুস্থ ব্যক্তি মাথা দিয়ে ইশারা করেও নামাজ আদায় করতে না পারলে কী করবেন, এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে নামাজ ফরজ হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোনো হুকুম দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে। আর তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জাকাত দেবে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দ্বীন।’ (সুরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫)

অসুস্থতার ক্ষেত্রেও নামাজের বিধান প্রযোজ্য থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো। যদি না পারো, তাহলে বসে নামাজ পড়ো। যদি তাও না পারো, তাহলে ইশারা করে নামাজ আদায় করো।’ (বুখারি, হাদিস: ১০৫০)

এই হাদিসের ভিত্তিতে অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম না হলে বসে নামাজ আদায় করবেন। বসে রুকু ও সিজদা করা সম্ভব হলে সেভাবেই নামাজ পড়বেন। বসে রুকু-সিজদা করার সময় রুকুর তুলনায় সিজদায় একটু বেশি ঝুঁকতে হবে।

অসুস্থতার কারণে বসেও নামাজ পড়া সম্ভব না হলে শুয়ে ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পা কিবলার দিকে রেখে শোয়ানো এবং মাথা কিছুটা উঁচু করে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে মুখ কিবলার দিকে থাকে।

এরপর মাথার ইশারায় রুকু ও সিজদা করতে হবে। মাথা দিয়ে ইশারা করা সম্ভব হলে সেটিই রুকু ও সিজদার বিকল্প হিসেবে গণ্য হবে।

অসুস্থতার কারণে রুকু ও সিজদার জন্য মাথা দিয়েও ইশারা করার সামর্থ্য যদি না থাকে, তাহলে ওই অবস্থার নামাজের বিষয়ে আলাদা বিধান রয়েছে।

যদি এমন অবস্থা এক দিন এক রাতের বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং এই সময়ের মধ্যে মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ পড়ার সক্ষমতা ফিরে না আসে, তাহলে ওই সময়ে ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।

অন্যদিকে, এক দিন এক রাতের মধ্যে অসুস্থ ব্যক্তি মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ পড়ার মতো সক্ষমতা ফিরে পেলে ওই সময়ের মধ্যে ছুটে যাওয়া নামাজগুলো কাজা করে নিতে হবে।

অর্থাৎ অসুস্থতার কারণে নামাজ আদায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। দাঁড়িয়ে পড়তে না পারলে বসে, বসতে না পারলে শুয়ে এবং শুয়েও মাথা দিয়ে ইশারা করতে না পারলে শরিয়তের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী নামাজের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

❤️
👏
🙂
😞

অসুস্থ ব্যক্তি ইশারায়ও নামাজ পড়তে না পারলে কী করবেন?

প্রকাশঃ ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮

১ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – নামাজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। অসুস্থতার কারণে একজন মুসলিম স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে না পারলেও সামর্থ্য অনুযায়ী বসে বা শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। এমনকি বসাও সম্ভব না হলে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অসুস্থ ব্যক্তি মাথা দিয়ে ইশারা করেও নামাজ আদায় করতে না পারলে কী করবেন, এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে নামাজ ফরজ হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোনো হুকুম দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে। আর তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জাকাত দেবে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দ্বীন।’ (সুরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫)

অসুস্থতার ক্ষেত্রেও নামাজের বিধান প্রযোজ্য থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো। যদি না পারো, তাহলে বসে নামাজ পড়ো। যদি তাও না পারো, তাহলে ইশারা করে নামাজ আদায় করো।’ (বুখারি, হাদিস: ১০৫০)

এই হাদিসের ভিত্তিতে অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম না হলে বসে নামাজ আদায় করবেন। বসে রুকু ও সিজদা করা সম্ভব হলে সেভাবেই নামাজ পড়বেন। বসে রুকু-সিজদা করার সময় রুকুর তুলনায় সিজদায় একটু বেশি ঝুঁকতে হবে।

অসুস্থতার কারণে বসেও নামাজ পড়া সম্ভব না হলে শুয়ে ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পা কিবলার দিকে রেখে শোয়ানো এবং মাথা কিছুটা উঁচু করে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে মুখ কিবলার দিকে থাকে।

এরপর মাথার ইশারায় রুকু ও সিজদা করতে হবে। মাথা দিয়ে ইশারা করা সম্ভব হলে সেটিই রুকু ও সিজদার বিকল্প হিসেবে গণ্য হবে।

অসুস্থতার কারণে রুকু ও সিজদার জন্য মাথা দিয়েও ইশারা করার সামর্থ্য যদি না থাকে, তাহলে ওই অবস্থার নামাজের বিষয়ে আলাদা বিধান রয়েছে।

যদি এমন অবস্থা এক দিন এক রাতের বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং এই সময়ের মধ্যে মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ পড়ার সক্ষমতা ফিরে না আসে, তাহলে ওই সময়ে ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।

অন্যদিকে, এক দিন এক রাতের মধ্যে অসুস্থ ব্যক্তি মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ পড়ার মতো সক্ষমতা ফিরে পেলে ওই সময়ের মধ্যে ছুটে যাওয়া নামাজগুলো কাজা করে নিতে হবে।

অর্থাৎ অসুস্থতার কারণে নামাজ আদায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। দাঁড়িয়ে পড়তে না পারলে বসে, বসতে না পারলে শুয়ে এবং শুয়েও মাথা দিয়ে ইশারা করতে না পারলে শরিয়তের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী নামাজের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।