ঢাকা ১০:২৬ , Fri, ১৬ Oct ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার, লড়াইয়ে ৪৩ প্রার্থী

শাহারিয়া নয়ন
  • প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৩
  • / 9
নিউইয়র্কে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৩ জন প্রার্থী। ছবি: প্রজন্ম কথা

নিউইয়র্ক, ১৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৫ হাজারের বেশি নাম থাকলেও ভোটকেন্দ্রে তাঁদের কতজন উপস্থিত হবেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভোটারসংখ্যা নিয়ে কিছু অমিল থাকলেও ৩৫ হাজারের বেশি ভোটারের হিসাবই এখন আলোচনায় রয়েছে। ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৩ জন প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য হিসেবে ৩৫ হাজার ২১৫ জন ভোটারের কথা জানিয়েছে দেশি ট্রিবিউন। তবে আগের নির্বাচনে প্রায় ১৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ১০ হাজারেরও কম ভোট দিয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকার আকারের পাশাপাশি ভোটদানের হারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এবার নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। নির্বাচনটি প্রথমে ১৮ অক্টোবর আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও দুর্গাপূজার অষ্টমীর সঙ্গে তারিখ মিলে যাওয়ায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশি ট্রিবিউন।

নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে আগের নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার এবং ভোট পড়ার সংখ্যা ১০ হাজারের কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, আগের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৫৫ শতাংশের নিচে।

আগের নির্বাচনের অংশগ্রহণের হার এবারও একই থাকলে ৩৫ হাজার ২১৫ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জনের কম ভোট দিতে পারেন। তবে এটি আগের নির্বাচনের হার ধরে করা গাণিতিক হিসাব, এবারের ভোটের পূর্বাভাস নয়।

প্রতিবেদনে আগের নির্বাচনের ভোটারসংখ্যা ১৮ হাজার ১৮৩ জন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে এবারের প্রকাশিত ৩৫ হাজার ২১৫ ভোটারের তালিকা আগেরটির তুলনায় প্রায় ৯৪ শতাংশ বড়। তবে ভোটার তালিকা বড় হওয়ার কারণ এবং নতুন ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ এক বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন, তার ওপরই প্রকৃত অংশগ্রহণের চিত্র নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দেশি ট্রিবিউন ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ৩৫ হাজার ২১৫ জন ভোটারের কথা জানিয়েছে। বিডিনিউজ২৪ ডটকম আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভোটারসংখ্যা ৩৫ হাজার ২৬৯ উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে, এনওয়াই ভয়েস২৪-এর প্রতিবেদনে ৪৫ হাজার ভোটারের কথা বলা হয়েছে। তবে ওই সংখ্যার পক্ষে আলাদা ভোটার তালিকা বা যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ৪৫ হাজারকে নিশ্চিত চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করার মতো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ছাড়া উইকলি বাংলাদেশ ইউএসএ জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশনের যাচাই শেষে ৩৫ হাজার ৩২১ জনের তালিকার কথা জানিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে তালিকা সংশোধন, দ্বৈত নাম শনাক্তকরণ কিংবা হিসাবের পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে সংখ্যায় পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি প্রকাশিত সর্বশেষ চূড়ান্ত তালিকা ছাড়া কোন সংখ্যাটি চূড়ান্ত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা এক বিতর্কে সংগঠনের উন্নয়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা, সদস্যপদ ও ভোটার-প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

বিতর্কে সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, ফিরোজ আহমেদ ও রাব্বি সৈয়দ অংশ নেন। ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন।

এনওয়াই ভয়েস২৪-এর প্রতিবেদনে সদস্য ফি, ভোটার-প্রক্রিয়া ও সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক প্রশ্নও তোলা হয়েছে। সদস্যদের ৮০ শতাংশের বেশি নিজেরা সদস্য ফি দেননি বলে যে দাবি প্রতিবেদনে এসেছে, সেটিকে গুঞ্জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্বাধীন যাচাই বা প্রকাশ্য আর্থিক নথি দিয়ে দাবিটি নিশ্চিত করা যায়নি।

২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, ভোটদানের হার এবং প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে নজর থাকবে। পাশাপাশি, ভোটারসংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে কোনটি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে মেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের তালিকা নির্বাচনে বেশি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করলেও তা নিশ্চিত করে না। ভোট গ্রহণ শেষে অংশগ্রহণের প্রকৃত হারই দেখাবে, তালিকার বড় আকার কতটা বাস্তব ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার, লড়াইয়ে ৪৩ প্রার্থী

প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৩

নিউইয়র্ক, ১৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৫ হাজারের বেশি নাম থাকলেও ভোটকেন্দ্রে তাঁদের কতজন উপস্থিত হবেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভোটারসংখ্যা নিয়ে কিছু অমিল থাকলেও ৩৫ হাজারের বেশি ভোটারের হিসাবই এখন আলোচনায় রয়েছে। ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৩ জন প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য হিসেবে ৩৫ হাজার ২১৫ জন ভোটারের কথা জানিয়েছে দেশি ট্রিবিউন। তবে আগের নির্বাচনে প্রায় ১৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ১০ হাজারেরও কম ভোট দিয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকার আকারের পাশাপাশি ভোটদানের হারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এবার নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। নির্বাচনটি প্রথমে ১৮ অক্টোবর আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও দুর্গাপূজার অষ্টমীর সঙ্গে তারিখ মিলে যাওয়ায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশি ট্রিবিউন।

নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে আগের নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার এবং ভোট পড়ার সংখ্যা ১০ হাজারের কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, আগের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৫৫ শতাংশের নিচে।

আগের নির্বাচনের অংশগ্রহণের হার এবারও একই থাকলে ৩৫ হাজার ২১৫ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জনের কম ভোট দিতে পারেন। তবে এটি আগের নির্বাচনের হার ধরে করা গাণিতিক হিসাব, এবারের ভোটের পূর্বাভাস নয়।

প্রতিবেদনে আগের নির্বাচনের ভোটারসংখ্যা ১৮ হাজার ১৮৩ জন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে এবারের প্রকাশিত ৩৫ হাজার ২১৫ ভোটারের তালিকা আগেরটির তুলনায় প্রায় ৯৪ শতাংশ বড়। তবে ভোটার তালিকা বড় হওয়ার কারণ এবং নতুন ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ এক বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন, তার ওপরই প্রকৃত অংশগ্রহণের চিত্র নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দেশি ট্রিবিউন ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ৩৫ হাজার ২১৫ জন ভোটারের কথা জানিয়েছে। বিডিনিউজ২৪ ডটকম আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভোটারসংখ্যা ৩৫ হাজার ২৬৯ উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে, এনওয়াই ভয়েস২৪-এর প্রতিবেদনে ৪৫ হাজার ভোটারের কথা বলা হয়েছে। তবে ওই সংখ্যার পক্ষে আলাদা ভোটার তালিকা বা যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ৪৫ হাজারকে নিশ্চিত চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করার মতো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ছাড়া উইকলি বাংলাদেশ ইউএসএ জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশনের যাচাই শেষে ৩৫ হাজার ৩২১ জনের তালিকার কথা জানিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে তালিকা সংশোধন, দ্বৈত নাম শনাক্তকরণ কিংবা হিসাবের পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে সংখ্যায় পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি প্রকাশিত সর্বশেষ চূড়ান্ত তালিকা ছাড়া কোন সংখ্যাটি চূড়ান্ত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা এক বিতর্কে সংগঠনের উন্নয়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা, সদস্যপদ ও ভোটার-প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

বিতর্কে সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, ফিরোজ আহমেদ ও রাব্বি সৈয়দ অংশ নেন। ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন।

এনওয়াই ভয়েস২৪-এর প্রতিবেদনে সদস্য ফি, ভোটার-প্রক্রিয়া ও সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক প্রশ্নও তোলা হয়েছে। সদস্যদের ৮০ শতাংশের বেশি নিজেরা সদস্য ফি দেননি বলে যে দাবি প্রতিবেদনে এসেছে, সেটিকে গুঞ্জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্বাধীন যাচাই বা প্রকাশ্য আর্থিক নথি দিয়ে দাবিটি নিশ্চিত করা যায়নি।

২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, ভোটদানের হার এবং প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে নজর থাকবে। পাশাপাশি, ভোটারসংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে কোনটি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে মেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের তালিকা নির্বাচনে বেশি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করলেও তা নিশ্চিত করে না। ভোট গ্রহণ শেষে অংশগ্রহণের প্রকৃত হারই দেখাবে, তালিকার বড় আকার কতটা বাস্তব ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে।