ঢাকা ১০:২৫ , Fri, ১৬ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরের ৭টিতে বাড়ির দাম নিম্নমুখী, উল্টো চিত্র টলেডোতে

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৪
  • / 7
ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশে এক বছরে বাড়ির দাম কমেছে। তবে এই প্রবণতার ব্যতিক্রম ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো। স্মার্টঅ্যাসেটের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরটিতে বাড়ির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা সমীক্ষায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

টলেডোতে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭০ ডলার। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ শহরটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

দাম বৃদ্ধির তালিকায় টলেডোর পর রয়েছে নেব্রাস্কার লিংকন। সেখানে এক বছরে বাড়ির দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। নিউইয়র্ক ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহরেও দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লিংকনে একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। তবে শহরটির দাম বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রতিবেদনে দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে। এক জায়গায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্য জায়গায় বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলা হয়েছে। এ কারণে সঠিক হারটি নিশ্চিত করতে মূল সমীক্ষার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

যেসব শহরে বাড়ির দাম কমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়ির দামের পতন আবাসন বাজারের আঞ্চলিক পার্থক্য তুলে ধরেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে এক বছরে বাড়ির দাম কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও নেপলসেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। টেক্সাসের অস্টিনে বাড়ির দাম কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, সান ফ্রান্সিসকোর মতো একই অঞ্চলের শহরে দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সব শহরে একই ধরনের পরিবর্তন ঘটছে না। বাড়ির সরবরাহ, ক্রেতাদের চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি দামের ওঠানামায় ভূমিকা রাখছে।

বিলাসবহুল বাড়ির বাজারে ভিন্ন চিত্র

সাধারণ আবাসন বাজারের দরপতনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিলাসবহুল এলাকায় বাড়ির দাম বেড়েছে। প্রপার্টিশার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটনে বাড়ি বিক্রির গড় মূল্য প্রথমবারের মতো ১ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছরে সেখানে বাড়ির দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ।

সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের ধনীদের পছন্দের এলাকা অ্যাথারটনে এই মূল্যবৃদ্ধি বিলাসবহুল আবাসন বাজারের আলাদা প্রবণতা তুলে ধরে। প্রতিবেদনের লেখক এলিজা থিসের মতে, ধনী ক্রেতারা অর্থনৈতিক মন্দা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক কম অনুভব করেন।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হ্যাম্পটনস এলাকার সাগাপোনাক ও ব্রিজহ্যাম্পটনও বিলাসবহুল বাড়ির উচ্চমূল্যের জন্য পরিচিত। তবে এই বাজারেও সব এলাকায় দাম বাড়েনি। ফ্লোরিডার মায়ামি বিচের ফিশার আইল্যান্ডে এক বছরে বাড়ির গড় দাম কমেছে ২৪ শতাংশ। এতে আগের বছর তালিকার শীর্ষে থাকা এলাকাটি এবার তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে একই সময়ে সাধারণ বাড়ির দাম কমা এবং বিলাসবহুল সম্পত্তির মূল্য বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টলেডোর মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী শহরে দাম বৃদ্ধি এবং অকল্যান্ড বা অস্টিনের মতো শহরে দরপতন বাজারের আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে স্পষ্ট করছে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরের ৭টিতে বাড়ির দাম নিম্নমুখী, উল্টো চিত্র টলেডোতে

প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৪

ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশে এক বছরে বাড়ির দাম কমেছে। তবে এই প্রবণতার ব্যতিক্রম ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো। স্মার্টঅ্যাসেটের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরটিতে বাড়ির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা সমীক্ষায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

টলেডোতে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭০ ডলার। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ শহরটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

দাম বৃদ্ধির তালিকায় টলেডোর পর রয়েছে নেব্রাস্কার লিংকন। সেখানে এক বছরে বাড়ির দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। নিউইয়র্ক ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহরেও দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লিংকনে একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। তবে শহরটির দাম বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রতিবেদনে দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে। এক জায়গায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্য জায়গায় বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলা হয়েছে। এ কারণে সঠিক হারটি নিশ্চিত করতে মূল সমীক্ষার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

যেসব শহরে বাড়ির দাম কমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়ির দামের পতন আবাসন বাজারের আঞ্চলিক পার্থক্য তুলে ধরেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে এক বছরে বাড়ির দাম কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও নেপলসেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। টেক্সাসের অস্টিনে বাড়ির দাম কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, সান ফ্রান্সিসকোর মতো একই অঞ্চলের শহরে দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সব শহরে একই ধরনের পরিবর্তন ঘটছে না। বাড়ির সরবরাহ, ক্রেতাদের চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি দামের ওঠানামায় ভূমিকা রাখছে।

বিলাসবহুল বাড়ির বাজারে ভিন্ন চিত্র

সাধারণ আবাসন বাজারের দরপতনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিলাসবহুল এলাকায় বাড়ির দাম বেড়েছে। প্রপার্টিশার্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটনে বাড়ি বিক্রির গড় মূল্য প্রথমবারের মতো ১ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছরে সেখানে বাড়ির দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ।

সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের ধনীদের পছন্দের এলাকা অ্যাথারটনে এই মূল্যবৃদ্ধি বিলাসবহুল আবাসন বাজারের আলাদা প্রবণতা তুলে ধরে। প্রতিবেদনের লেখক এলিজা থিসের মতে, ধনী ক্রেতারা অর্থনৈতিক মন্দা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক কম অনুভব করেন।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হ্যাম্পটনস এলাকার সাগাপোনাক ও ব্রিজহ্যাম্পটনও বিলাসবহুল বাড়ির উচ্চমূল্যের জন্য পরিচিত। তবে এই বাজারেও সব এলাকায় দাম বাড়েনি। ফ্লোরিডার মায়ামি বিচের ফিশার আইল্যান্ডে এক বছরে বাড়ির গড় দাম কমেছে ২৪ শতাংশ। এতে আগের বছর তালিকার শীর্ষে থাকা এলাকাটি এবার তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে একই সময়ে সাধারণ বাড়ির দাম কমা এবং বিলাসবহুল সম্পত্তির মূল্য বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টলেডোর মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী শহরে দাম বৃদ্ধি এবং অকল্যান্ড বা অস্টিনের মতো শহরে দরপতন বাজারের আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে স্পষ্ট করছে।