ঢাকা ১১:৫৪ , Tue, ১৩ Oct ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের পুরোনো জরিমানার সুদ মওকুফ, বকেয়া পরিশোধে ছাড়

  • প্রকাশঃ ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৪
  • / 4
নিউইয়র্কে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের বকেয়া জরিমানার সুদ মওকুফ এবং ছাড়ে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিতে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক, ১৪ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্ক শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের বকেয়া জরিমানার ঋণ কম খরচে পরিশোধের সুযোগ দিতে ‘ডেট ডিমোলিশার’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন। ১৩ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে জমে থাকা সুদ মওকুফ এবং ছাড়ে বকেয়া জরিমানা পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

মেয়র জোহরান মামদানি ও নিউইয়র্ক সিটি অর্থ বিভাগ কমিশনার রিচার্ড লি জানান, পাঁচটি বরোতেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকেরা এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন। এর লক্ষ্য দীর্ঘদিনের বকেয়া জরিমানা আদায়, সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার সুযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত জরিমানা এড়াতে সহায়তা করা। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা, কর্মসূচির মাধ্যমে এমন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায় হতে পারে, যা অন্যথায় অনাদায়ি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

মেয়র মামদানি বলেন, নগর সরকারের জরিমানা ও সুদের বোঝা নিউইয়র্কবাসীর জন্য অন্তহীন আর্থিক চাপ তৈরি করা উচিত নয়। তাঁর ভাষ্য, জরিমানার উদ্দেশ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রণীত নিয়ম মানতে উৎসাহিত করা, ব্যবসা পরিচালনা বা বাড়ি মেরামত কঠিন করে তোলা নয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে নিয়ম মেনে চলার অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।

ছবির সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়

অর্থ বিভাগের কমিশনার রিচার্ড লি বলেন, কর্মসূচিটি নিউইয়র্কবাসী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোনো জরিমানার দায় মেটানোর সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে নগর কর্তৃপক্ষের অনাদায়ি রাজস্ব আদায় এবং সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।

কোন ধরনের জরিমানা অন্তর্ভুক্ত

কর্মসূচিটি মূলত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের রায় বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া বকেয়া জরিমানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শহরের বিভিন্ন সংস্থা, যেমন পরিচ্ছন্নতা বিভাগ, ভবন বিভাগ ও পরিবহন বিভাগের জারি করা নিয়মভঙ্গের নোটিশ থেকে এসব বকেয়া তৈরি হতে পারে। ভবন নির্মাণবিধি লঙ্ঘন থেকে শুরু করে নির্ধারিত নিয়মে পুরোনো গদি বা ম্যাট্রেস ফেলে না দেওয়ার মতো বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যোগ্য বকেয়া জরিমানার ক্ষেত্রে জমে থাকা সুদ মওকুফ করা হবে এবং ছাড়ের হারে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জারি করা বকেয়া লঙ্ঘন বা বিধিভঙ্গের বিষয়গুলোও নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

সব বকেয়া জরিমানা এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। আদালতে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের পর নথিভুক্ত হওয়া জরিমানা এর বাইরে থাকবে। শেরিফের কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটির মার্শাল, করপোরেশন কাউন্সেল বা তাঁর কার্যালয়ের ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির আওতাভুক্ত জরিমানাও যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে জারি করা কিছু জরিমানা, যেমন গাড়ির ইঞ্জিন অযথা চালু রাখা বা শব্দদূষণসংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তৈরি হওয়া জরিমানা, এ সুবিধার বাইরে থাকবে। শেরিফ বা সিটি মার্শালের কাছে আদায়ের জন্য পাঠানো হয়েছে, কর-সংক্রান্ত দায় হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে অথবা ফৌজদারি তদন্তের বিষয় হয়েছে, এমন জরিমানাও কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বাড়ির মালিকদের জন্য সুযোগ

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অর্থবিষয়ক কমিটির সভাপতি লিন্ডা লি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত চাপের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু রাখা এবং বাড়ির মালিকদের নিজেদের বাড়িতে থাকতে সহায়তা করার সব সুযোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্থানীয় আইন ১৪৭-এর মাধ্যমে বকেয়া জরিমানা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নগর সরকারের রাজস্ব আদায়েও সহায়তা হবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসা সেবা বিভাগের কমিশনার কেনি মিনায়া বলেন, মেয়র মামদানির নির্বাহী আদেশ ১১ অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসার জরিমানা কমাতে অর্থ বিভাগ, ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সেবা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করেছে। তাঁর ভাষ্য, নিয়ম মেনে চলতে সম্মত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুদ ও জরিমানার বোঝা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভবন বিভাগের কমিশনার আহমেদ তিগানি বলেন, বকেয়া বিধিভঙ্গের বিষয়গুলো সমাধান করলে বাড়ির মালিকেরা ভবনকে নিরাপদ রাখতে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কমিশনার গ্রেগরি অ্যান্ডারসনও কর্মসূচিটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের আর্থিক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম মানতে উৎসাহিত করবে।

ফায়ার কমিশনার লিলিয়ান বনসিগনোরে বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিউইয়র্কবাসীর জীবন এবং তাঁদের বসবাস ও কাজের ভবন সুরক্ষার জন্য জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার লিসা এফ. গার্সিয়াও বলেন, বকেয়া জরিমানা পরিশোধ ও নিয়ম মেনে চলার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসূচিটি নগর কর্তৃপক্ষের অনাদায়ি অর্থ আদায়ে সহায়তা করবে।

নিউইয়র্ক সিটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্থনি শোরিসের মতে, দীর্ঘদিনের জরিমানা ও জমতে থাকা সুদ ব্যবসা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কর্মসূচি তাঁদের পুরোনো দায় মিটিয়ে সামনে এগোনোর সুযোগ দেবে।

ম্যানহাটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জেসিকা ওয়াকার বলেন, পুরোনো জরিমানার সুদ জমতে থাকলে ব্যবসার অনুমতি, লাইসেন্স নবায়ন কিংবা ঋণের আবেদনেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া এ সুযোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাশ্রয়ী খরচে বকেয়া মিটিয়ে নিয়ম মেনে চলার অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করবে।

সাউথ ব্রঙ্কসের হাব থার্ড অ্যাভিনিউ ব্যবসায়িক উন্নয়ন এলাকার নির্বাহী পরিচালক পেদ্রো সুয়ারেজ বলেন, বকেয়া দায় কমলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো কর্মী, পণ্য, প্রযুক্তি ও দোকানের উন্নয়নে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে। ফরেস্ট অ্যাভিনিউ ব্যবসায়িক উন্নয়ন এলাকার নির্বাহী পরিচালক নিনা ফ্লোরেসও বলেন, এ উদ্যোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোনো দায় মিটিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মনোযোগ দিতে সহায়তা করবে।

কীভাবে আবেদন করবেন

নিউইয়র্কবাসীরা শহরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের বকেয়া জরিমানা কর্মসূচির আওতায় পড়বে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। সেখানে যোগ্যতার শর্ত, সাধারণ জিজ্ঞাসার উত্তর এবং বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়াও পাওয়া যাবে।

সহায়তার জন্য ৩১১ নম্বরে যোগাযোগ করা, অর্থ বিভাগের ব্যবসায়িক সেবা কেন্দ্রে যাওয়া অথবা বিভাগের অনলাইন সেবা ও বকেয়া আদায়সংক্রান্ত কল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে। কর্মসূচির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যোগ্য ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের বকেয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

❤️
👏
🙂
😞

নিউইয়র্কে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের পুরোনো জরিমানার সুদ মওকুফ, বকেয়া পরিশোধে ছাড়

প্রকাশঃ ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৪

নিউইয়র্ক, ১৪ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – নিউইয়র্ক শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের বকেয়া জরিমানার ঋণ কম খরচে পরিশোধের সুযোগ দিতে ‘ডেট ডিমোলিশার’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন। ১৩ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে জমে থাকা সুদ মওকুফ এবং ছাড়ে বকেয়া জরিমানা পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

মেয়র জোহরান মামদানি ও নিউইয়র্ক সিটি অর্থ বিভাগ কমিশনার রিচার্ড লি জানান, পাঁচটি বরোতেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকেরা এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন। এর লক্ষ্য দীর্ঘদিনের বকেয়া জরিমানা আদায়, সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার সুযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত জরিমানা এড়াতে সহায়তা করা। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা, কর্মসূচির মাধ্যমে এমন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায় হতে পারে, যা অন্যথায় অনাদায়ি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

মেয়র মামদানি বলেন, নগর সরকারের জরিমানা ও সুদের বোঝা নিউইয়র্কবাসীর জন্য অন্তহীন আর্থিক চাপ তৈরি করা উচিত নয়। তাঁর ভাষ্য, জরিমানার উদ্দেশ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রণীত নিয়ম মানতে উৎসাহিত করা, ব্যবসা পরিচালনা বা বাড়ি মেরামত কঠিন করে তোলা নয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে নিয়ম মেনে চলার অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।

ছবির সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়

অর্থ বিভাগের কমিশনার রিচার্ড লি বলেন, কর্মসূচিটি নিউইয়র্কবাসী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোনো জরিমানার দায় মেটানোর সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে নগর কর্তৃপক্ষের অনাদায়ি রাজস্ব আদায় এবং সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।

কোন ধরনের জরিমানা অন্তর্ভুক্ত

কর্মসূচিটি মূলত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের রায় বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া বকেয়া জরিমানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শহরের বিভিন্ন সংস্থা, যেমন পরিচ্ছন্নতা বিভাগ, ভবন বিভাগ ও পরিবহন বিভাগের জারি করা নিয়মভঙ্গের নোটিশ থেকে এসব বকেয়া তৈরি হতে পারে। ভবন নির্মাণবিধি লঙ্ঘন থেকে শুরু করে নির্ধারিত নিয়মে পুরোনো গদি বা ম্যাট্রেস ফেলে না দেওয়ার মতো বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যোগ্য বকেয়া জরিমানার ক্ষেত্রে জমে থাকা সুদ মওকুফ করা হবে এবং ছাড়ের হারে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জারি করা বকেয়া লঙ্ঘন বা বিধিভঙ্গের বিষয়গুলোও নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

সব বকেয়া জরিমানা এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। আদালতে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের পর নথিভুক্ত হওয়া জরিমানা এর বাইরে থাকবে। শেরিফের কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটির মার্শাল, করপোরেশন কাউন্সেল বা তাঁর কার্যালয়ের ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির আওতাভুক্ত জরিমানাও যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে জারি করা কিছু জরিমানা, যেমন গাড়ির ইঞ্জিন অযথা চালু রাখা বা শব্দদূষণসংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তৈরি হওয়া জরিমানা, এ সুবিধার বাইরে থাকবে। শেরিফ বা সিটি মার্শালের কাছে আদায়ের জন্য পাঠানো হয়েছে, কর-সংক্রান্ত দায় হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে অথবা ফৌজদারি তদন্তের বিষয় হয়েছে, এমন জরিমানাও কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বাড়ির মালিকদের জন্য সুযোগ

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অর্থবিষয়ক কমিটির সভাপতি লিন্ডা লি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত চাপের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু রাখা এবং বাড়ির মালিকদের নিজেদের বাড়িতে থাকতে সহায়তা করার সব সুযোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্থানীয় আইন ১৪৭-এর মাধ্যমে বকেয়া জরিমানা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নগর সরকারের রাজস্ব আদায়েও সহায়তা হবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসা সেবা বিভাগের কমিশনার কেনি মিনায়া বলেন, মেয়র মামদানির নির্বাহী আদেশ ১১ অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসার জরিমানা কমাতে অর্থ বিভাগ, ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সেবা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করেছে। তাঁর ভাষ্য, নিয়ম মেনে চলতে সম্মত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুদ ও জরিমানার বোঝা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভবন বিভাগের কমিশনার আহমেদ তিগানি বলেন, বকেয়া বিধিভঙ্গের বিষয়গুলো সমাধান করলে বাড়ির মালিকেরা ভবনকে নিরাপদ রাখতে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কমিশনার গ্রেগরি অ্যান্ডারসনও কর্মসূচিটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের আর্থিক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম মানতে উৎসাহিত করবে।

ফায়ার কমিশনার লিলিয়ান বনসিগনোরে বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিউইয়র্কবাসীর জীবন এবং তাঁদের বসবাস ও কাজের ভবন সুরক্ষার জন্য জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার লিসা এফ. গার্সিয়াও বলেন, বকেয়া জরিমানা পরিশোধ ও নিয়ম মেনে চলার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসূচিটি নগর কর্তৃপক্ষের অনাদায়ি অর্থ আদায়ে সহায়তা করবে।

নিউইয়র্ক সিটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্থনি শোরিসের মতে, দীর্ঘদিনের জরিমানা ও জমতে থাকা সুদ ব্যবসা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কর্মসূচি তাঁদের পুরোনো দায় মিটিয়ে সামনে এগোনোর সুযোগ দেবে।

ম্যানহাটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জেসিকা ওয়াকার বলেন, পুরোনো জরিমানার সুদ জমতে থাকলে ব্যবসার অনুমতি, লাইসেন্স নবায়ন কিংবা ঋণের আবেদনেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া এ সুযোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাশ্রয়ী খরচে বকেয়া মিটিয়ে নিয়ম মেনে চলার অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করবে।

সাউথ ব্রঙ্কসের হাব থার্ড অ্যাভিনিউ ব্যবসায়িক উন্নয়ন এলাকার নির্বাহী পরিচালক পেদ্রো সুয়ারেজ বলেন, বকেয়া দায় কমলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো কর্মী, পণ্য, প্রযুক্তি ও দোকানের উন্নয়নে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে। ফরেস্ট অ্যাভিনিউ ব্যবসায়িক উন্নয়ন এলাকার নির্বাহী পরিচালক নিনা ফ্লোরেসও বলেন, এ উদ্যোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোনো দায় মিটিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মনোযোগ দিতে সহায়তা করবে।

কীভাবে আবেদন করবেন

নিউইয়র্কবাসীরা শহরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের বকেয়া জরিমানা কর্মসূচির আওতায় পড়বে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। সেখানে যোগ্যতার শর্ত, সাধারণ জিজ্ঞাসার উত্তর এবং বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়াও পাওয়া যাবে।

সহায়তার জন্য ৩১১ নম্বরে যোগাযোগ করা, অর্থ বিভাগের ব্যবসায়িক সেবা কেন্দ্রে যাওয়া অথবা বিভাগের অনলাইন সেবা ও বকেয়া আদায়সংক্রান্ত কল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে। কর্মসূচির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যোগ্য ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের বকেয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।