আমেরিকায় চাকরি থেকে বরখাস্ত হলে কর্মীর কী কী অধিকার আছে?
- প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৮
- / 1
ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে শেষ বেতন, স্বাস্থ্যবিমা, বেকার ভাতা এবং বেআইনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকতে পারে। তবে এসব অধিকার নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন, চাকরির ধরন এবং বরখাস্তের কারণের ওপর। দেশটির অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ‘অ্যাট-উইল এমপ্লয়মেন্ট’ নীতি প্রচলিত থাকলেও নিয়োগকর্তা ইচ্ছামতো বৈষম্যমূলক বা আইনবিরোধী কারণে কর্মীকে বরখাস্ত করতে পারেন না।
চাকরি হারানোর পর কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, তা জানা জরুরি। বিশেষ করে শেষ বেতন কখন পাওয়ার কথা, স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখার সুযোগ আছে কি না এবং বেকার ভাতার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, এসব বিষয়ে অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম আলাদা।
শেষ বেতন ও অব্যবহৃত ছুটির টাকা
চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেও কাজ করে অর্জিত বেতন পাওয়ার অধিকার কর্মীর থাকে। তবে চাকরি শেষ হওয়ার দিনই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বেতন পরিশোধ করতে হবে, এমন কোনো সাধারণ ফেডারেল নিয়ম নেই। শেষ বেতন দেওয়ার সময়সীমা অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
নিউইয়র্কে সাধারণত পরবর্তী নিয়মিত বেতন দেওয়ার দিনে বরখাস্ত হওয়া কর্মীর পাওনা পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে, জমে থাকা অব্যবহৃত ছুটি বা পিটিওর অর্থ পাওয়া যাবে কি না, তা অঙ্গরাজ্যের আইন এবং প্রতিষ্ঠানের লিখিত নীতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
নির্ধারিত সময়ে বেতন না পেলে কর্মী বেতন বিবরণী, কাজের সময়ের হিসাব ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের শ্রম দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারেন।
চাকরি হারালেও স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখার সুযোগ
চাকরির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যবিমা হারানোর পর কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ফেডারেল কোবরা আইনের আওতায় সাময়িকভাবে একই গ্রুপ স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখার সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত ২০ বা তার বেশি কর্মী থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় এ সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। চাকরি শেষ হওয়া বা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার কারণে বিমা হারালে যোগ্য ব্যক্তি সাধারণত সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত বিমা চালু রাখতে পারেন। তবে তাঁকে বিমার সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম এবং সাধারণত অতিরিক্ত প্রশাসনিক খরচ বহন করতে হয়।
কোবরা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিকল্প নিয়ম থাকতে পারে। তাই চাকরি শেষ হওয়ার পর বিমা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যোগ্যতা, আবেদনসীমা ও খরচ জেনে নেওয়া উচিত।
বেকার ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা
কর্মী ছাঁটাই, কাজের সুযোগ কমে যাওয়া বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণে চাকরি হারালে বেকার ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হতে পারে। তবে আগের আয়, নির্দিষ্ট সময়ের কর্ম-ইতিহাস এবং চাকরি হারানোর পরিস্থিতি বিবেচনা করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।
বরখাস্ত হলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেকার ভাতার অযোগ্য হয়ে যান না। তবে গুরুতর অসদাচরণ বা কাজসংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে বরখাস্ত হলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বিমা কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর থেকে সাপ্তাহিক বেকার ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫০৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৬৯ ডলার করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ ভাতা পান না। আগের আয় ও প্রযোজ্য নিয়মের ভিত্তিতে ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
চাকরি হারালে দ্রুত সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বিমা কর্মসূচিতে আবেদন করা উচিত। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে সিদ্ধান্তপত্রে উল্লেখ করা নিয়ম অনুযায়ী আপিলের সুযোগ থাকতে পারে। এ জন্য বেতন বিবরণী, নিয়োগপত্র ও বরখাস্তসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করা সহায়ক।
বেআইনি বরখাস্ত হলে কোথায় অভিযোগ করবেন
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাট-উইল নীতি প্রচলিত থাকলেও সুরক্ষিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বৈষম্য করে কর্মীকে বরখাস্ত করা বেআইনি হতে পারে। ফেডারেল আইনে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, জাতীয় উৎস, লিঙ্গ, গর্ভাবস্থা, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে বয়স এবং প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে চাকরিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ। কিছু অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের সুরক্ষা আরও বিস্তৃত।
কর্মী কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন, তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করেছেন বলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া কিংবা বরখাস্ত করাও বেআইনি প্রতিশোধমূলক আচরণ হতে পারে।
এ ধরনের ঘটনায় কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশনে (ইইওসি) অভিযোগ জানাতে পারেন। সাধারণত অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা ১৮০ দিন। তবে প্রযোজ্য অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় আইনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে তা ৩০০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগের পর তদন্ত, সমঝোতা বা আদালতে যাওয়ার প্রক্রিয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হয়। অভিযোগ করলেই চাকরি ফিরে পাওয়া বা ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিশ্চিত নয়।
বরখাস্তের পর যে পদক্ষেপগুলো জরুরি
চাকরি হারানোর পর প্রথমেই বরখাস্তের কারণ ও কার্যকর হওয়ার তারিখ লিখিতভাবে জানতে চাওয়া যেতে পারে। সব নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কারণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও লিখিত তথ্য ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
এরপর শেষ বেতন, অব্যবহৃত ছুটির অর্থ, স্বাস্থ্যবিমা এবং সম্ভাব্য বিচ্ছেদকালীন অর্থ বা সেভারেন্স পেমেন্ট সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। সেভারেন্স পেমেন্ট সব কর্মীর জন্য আইনত বাধ্যতামূলক নয়।
কোনো সেভারেন্স চুক্তি বা অন্য নথিতে সই করার আগে শর্ত ভালোভাবে পড়া জরুরি। চুক্তিতে আইনি দাবি ত্যাগের শর্ত থাকলে প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
পাশাপাশি বেকার ভাতার জন্য দ্রুত আবেদন করা এবং নিয়োগপত্র, বেতন বিবরণী, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন, প্রাসঙ্গিক ইমেইল ও বরখাস্তসংক্রান্ত নথির বৈধ কপি ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। তবে প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য বা অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
চাকরি হারানো মানেই সব অধিকার হারানো নয়
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি থেকে বরখাস্ত হলে কর্মীর অধিকার নির্ভর করে অঙ্গরাজ্যের আইন, চাকরির চুক্তি এবং বরখাস্তের কারণের ওপর। তাই নিজের পরিস্থিতি যাচাই না করে অন্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তর, বেকারত্ব বিমা কর্তৃপক্ষ বা কর্মসংস্থান আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

























