তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় দেশ গণতন্ত্রের মহাসড়কে হাঁটবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
- প্রকাশঃ ০২:০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / 41
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে। ছবি: সংগৃহীত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের সুপ্রশস্ত মহাসড়কে হাঁটবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপের পর যে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা দেশের গণতন্ত্রকে গভীর সংকটে নিয়ে গিয়েছিল।
আজ বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিষয়ে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ ১৪ বছর আগে দেওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে। এর ফলে সংবিধানে যুক্ত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হলো। রায়ে উল্লেখ করা হয়—এই বিধানগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।
বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট রায় দেয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি তা মনে করি না। কোন রায় দেশের মানুষের স্বার্থ, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষা করবে—সেটা জাতিই বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, আজকের রায়ে পূর্বের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে। এটি কার্যকর হবে পরবর্তী সংসদ ভাঙার ১৫ দিনের মধ্যে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছিল। আপিল বিভাগের নতুন রায়ে এ ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি সহায়ক কাঠামো, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পুরো রায়ে (ফুল জাজমেন্ট) পাওয়া যাবে।
জুলাই সনদে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখায় পরিবর্তন আনা যাবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে অবশ্যই আলোচনা হবে। ২০ বছর পর জনগণ যদি মনে করে এই ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন, পার্লামেন্ট তখন সিদ্ধান্ত নেবে।
আগের রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও কলঙ্কিত’ বলার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, রায়ে দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের মতো ভুল ছিল বলেই তা বাতিল হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মনে করেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে ভবিষ্যতে এ রায় নিয়ে আর বিতর্ক বা মন্তব্য হওয়া উচিত নয়।





























