৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা: ঢাকার অর্ধেক ভবন ঝুঁকিতে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
- প্রকাশঃ ১১:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / 112
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ব-দ্বীপ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় দেশে ৯ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা এখনো অত্যন্ত সীমিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে নিয়মিতই। এতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায়ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও ভূমিকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, তিনটি টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থান করায় বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
একটি বড় ভূমিকম্প ঢাকার জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে—এ বিষয়ে উদ্বেগজনক হিসাব দিয়েছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি। তাঁর গবেষণা বলছে, শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক ভবনই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে অপরিকল্পিত নগরায়ন, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও ঘনবসতি ঢাকার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়েছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন বলেন, বাংলাদেশের বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলার ২০ শতাংশ সক্ষমতাও নেই। উদ্ধার সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল, নিরাপদ অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে।
যদিও ফায়ার সার্ভিস বলছে, তারা ধীরে ধীরে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সংস্থার পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভূমিকম্পসহ বড় দুর্যোগ লক্ষ্য রেখে নতুন কর্মপদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পরিকল্পিত ও ভূমিকম্প-সহনীয় নগরায়ন, ভবন নির্মাণে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি। অন্যথায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বিপর্যয় হবে অকল্পনীয় মাত্রার।





























