শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যানকারী জবি অধ্যাপকের অধীনে দর্শন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড–এ বিতর্ক
- প্রকাশঃ ০১:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / 106
ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামকে ঘিরে নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর নেতা হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষক সরকার পরিবর্তনের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল তবিয়তে থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ অধ্যাপক হাফিজুলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে ২৯ নভেম্বর তিনি বিভাগের নতুন শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বোর্ড বসানো এবং ‘পছন্দের প্রার্থী’ নিয়োগের চেষ্টা—এসব নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, জকসু নির্বাচনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নিজের নিয়োগ–সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সখ্যতার কারণেই বিভিন্ন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অধ্যাপক হাফিজুলের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, দলীয় রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশগ্রহণ, এবং গবেষণায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে—যার কোনো তদন্ত–অগ্রগতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।
এ ছাড়া, জুলাই গণহত্যা ইস্যুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যান করে যে ‘এক হাজার একজন’ শিক্ষক বিবৃতি দেন—সেখানে অধ্যাপক হাফিজুলের নাম রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। এ নিয়েও প্রশাসন নীরব ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
গবেষণা জালিয়াতি ও পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে বিতর্ক সম্পর্কেও বিভিন্ন শিক্ষক মন্তব্য করলেও অধ্যাপক হাফিজুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না—তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।





























