ডেঙ্গুতে নভেম্বরেই সর্বোচ্চ সংক্রমণ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু
- প্রকাশঃ ০৮:০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 55
দেশে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। মাস শেষ হতে এখনো তিন দিন বাকি থাকতেই নভেম্বরেই এ বছরের সর্বোচ্চ সংক্রমণ ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৭ জন।
আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২১১ জন রোগী। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ জন। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৭৮৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭৭ জন।
গবেষকেরা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে চলতি মাসে মৃত্যুর সংখ্যাও সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বরে সংক্রমণ কিছুটা কমতে পারে হলেও হ্রাসের হার উল্লেখযোগ্য হবে না। এডিস মশার উপদ্রবও এ মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তাঁদের ধারণা, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবীরুল বাশার বলেন, “এ মাসে এডিস মশার বিস্তার যতটা কমবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তা হয়নি। ফলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আগামী মাসেও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে মনে হয় না। জানুয়ারির শেষের দিকে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।”
জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, বৃষ্টির এক মাস পর সাধারণত এডিস মশার বিস্তার বাড়ে। চলতি মাসের শুরুতে দেশে বৃষ্টি হওয়ায় তার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলতে পারে। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হলে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নতুন করে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে। দক্ষিণ সিটির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা যান। উত্তর সিটির কোভিড–১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। রাজধানীর বাইরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা যান।
২০০০ সালে দেশে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ হাজার ৫৫১ জন এবং মারা যান ৯৩ জন। পরে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংক্রমণ রেকর্ড হয়—তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু।





























