ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরুন—কারখানা বন্ধ নয়, চালু থাকুক: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 115

বিএনপি সবসময়ই দেশের অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে, তখনই অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি গতিশীল ছিল।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫–এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

ব্যবসায়বান্ধব নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা পাল্টাতে হবে…। গত ১৫ বছরে যাঁরা লুট করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন, চুরি করে পালিয়ে গেছেন—তাঁদের ধরুন, শাস্তি দিন। কিন্তু তাঁদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান যেগুলোতে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে, সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে ১৪ লাখ মানুষকে বেকার করার কোনো মানে নেই। এই বেকারত্ব সৃষ্টি করে আমরা কী অর্জন করছি? আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে এই কারখানাগুলো চালু রাখা যায় এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়।

সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া অর্থনীতিতে স্থিতি ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কৃষকেরা যাতে সার–বীজ ঠিকমতো পান, শ্রমিকেরা যাতে ন্যায্য দাম পান—এই বিষয়গুলোই আমাদের প্রথম বিবেচনায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের অগ্রগতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “১৯৭১ সালে সাড়ে সাত কোটি মানুষের দেশে খাদ্যঘাটতি ছিল ২৮ লাখ মেট্রিক টন। আজকে বাংলাদেশ প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ—এটা বড় অর্জন। যথাযথ পরিকল্পনা ও সহায়তা দিলে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ফখরুল বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চিকিৎসা খাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে জনগণের উন্নয়নের উপযোগী করতে হবে।

বিএনপির সংস্কার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ‘ভিশন ৩০’ দিয়েছেন। আজ যে সংস্কার নিয়ে আমরা একমত হয়েছি, সেসবের অনেকগুলোই সেখানে ছিল। ২০২৩ সালে দেওয়া আমাদের ৩১ দফাতেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ব্যাপক প্রস্তাব ছিল। আমরা সবসময়ই নতুন বাংলাদেশ নয়, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যই সামনে রেখেছি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

যাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরুন—কারখানা বন্ধ নয়, চালু থাকুক: মির্জা ফখরুল

প্রকাশঃ ০৩:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপি সবসময়ই দেশের অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে, তখনই অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি গতিশীল ছিল।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫–এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

ব্যবসায়বান্ধব নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা পাল্টাতে হবে…। গত ১৫ বছরে যাঁরা লুট করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন, চুরি করে পালিয়ে গেছেন—তাঁদের ধরুন, শাস্তি দিন। কিন্তু তাঁদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান যেগুলোতে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে, সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে ১৪ লাখ মানুষকে বেকার করার কোনো মানে নেই। এই বেকারত্ব সৃষ্টি করে আমরা কী অর্জন করছি? আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে এই কারখানাগুলো চালু রাখা যায় এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়।

সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া অর্থনীতিতে স্থিতি ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কৃষকেরা যাতে সার–বীজ ঠিকমতো পান, শ্রমিকেরা যাতে ন্যায্য দাম পান—এই বিষয়গুলোই আমাদের প্রথম বিবেচনায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের অগ্রগতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “১৯৭১ সালে সাড়ে সাত কোটি মানুষের দেশে খাদ্যঘাটতি ছিল ২৮ লাখ মেট্রিক টন। আজকে বাংলাদেশ প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ—এটা বড় অর্জন। যথাযথ পরিকল্পনা ও সহায়তা দিলে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ফখরুল বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চিকিৎসা খাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে জনগণের উন্নয়নের উপযোগী করতে হবে।

বিএনপির সংস্কার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ‘ভিশন ৩০’ দিয়েছেন। আজ যে সংস্কার নিয়ে আমরা একমত হয়েছি, সেসবের অনেকগুলোই সেখানে ছিল। ২০২৩ সালে দেওয়া আমাদের ৩১ দফাতেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ব্যাপক প্রস্তাব ছিল। আমরা সবসময়ই নতুন বাংলাদেশ নয়, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যই সামনে রেখেছি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”