ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকাবিয়ান শিক্ষার্থীদের

  • প্রকাশঃ ০৪:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 112

প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ দ্রুত প্রকাশের দাবিতে শিক্ষা ভবনের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ–২০২৫’ চূড়ান্তকরণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থী চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে এবং অধ্যাদেশের খসড়া বর্তমানে পরিমার্জনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর খসড়া অধ্যাদেশটি মতামতের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন মহল থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মতামত পাওয়া গেছে। এসব মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরিখে যাচাই করে অধ্যাদেশ পরিমার্জন করা হচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন, সাত কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, নারী শিক্ষার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার কথা জানায়। পাশাপাশি গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।

তবে মন্ত্রণালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার আশ্বাসে তারা আর সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত ও স্পষ্ট খসড়া প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ দাবিতে তারা নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকাবিয়ান শিক্ষার্থীদের

প্রকাশঃ ০৪:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ দ্রুত প্রকাশের দাবিতে শিক্ষা ভবনের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ–২০২৫’ চূড়ান্তকরণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থী চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে এবং অধ্যাদেশের খসড়া বর্তমানে পরিমার্জনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর খসড়া অধ্যাদেশটি মতামতের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন মহল থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মতামত পাওয়া গেছে। এসব মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরিখে যাচাই করে অধ্যাদেশ পরিমার্জন করা হচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন, সাত কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, নারী শিক্ষার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার কথা জানায়। পাশাপাশি গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।

তবে মন্ত্রণালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার আশ্বাসে তারা আর সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত ও স্পষ্ট খসড়া প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ দাবিতে তারা নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ।