ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, ঘটনার বিবরণে যা লিখেছেন বাদী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৬:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 96

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় খুন হন লায়লা আফরোজ ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজছবি: পরিবারের সৌজন্যে


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও কন্যা হত্যার ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (—) রাতের দিকে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি করেন নিহতদের স্বজন ও পরিবারের কর্তা আ জ ম আজিজুল ইসলাম।

মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম নিহত লায়লা আফরোজ (৪৮) ও কিশোরী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)-এর হত্যার ঘটনায় তাঁদের বাসায় কর্মরত কথিত খণ্ডকালীন গৃহকর্মী মোছা. আয়েশা (২০)কে আসামি করেছেন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল সকাল ৭টা ৫১ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এজাহারে বাদী আজিজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক এবং পরিবারসহ মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। ঘটনার চার দিন আগে অভিযুক্ত গৃহকর্মী তাঁর বাসায় খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন। ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে তিনি কর্মস্থল উত্তরা এলাকায় চলে যান। পরে কর্মস্থলে অবস্থানকালে স্ত্রী লায়লা আফরোজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ পাননি।

এতে সন্দেহ হলে বেলা ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে এসে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তাঁর স্ত্রীর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে ছিলেন। এ সময় তাঁর কন্যা নাফিসা গলার নিচে ডান পাশে কাটা অবস্থায় বাসার প্রধান ফটকের কাছে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে ছিল।

আজিজুল ইসলাম দ্রুত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আশিকের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিসাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বাদীর মেয়ের স্কুল ড্রেস পরিহিত অবস্থায় বাসা থেকে পালিয়ে যান। এ সময় তিনি একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাদী নিশ্চিত হন যে, অজ্ঞাত কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে ছুরি কিংবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করেছেন।

এদিকে মামলার আসামি কথিত গৃহকর্মীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, ঘটনার বিবরণে যা লিখেছেন বাদী

প্রকাশঃ ০৬:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় খুন হন লায়লা আফরোজ ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজছবি: পরিবারের সৌজন্যে


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও কন্যা হত্যার ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (—) রাতের দিকে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি করেন নিহতদের স্বজন ও পরিবারের কর্তা আ জ ম আজিজুল ইসলাম।

মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম নিহত লায়লা আফরোজ (৪৮) ও কিশোরী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)-এর হত্যার ঘটনায় তাঁদের বাসায় কর্মরত কথিত খণ্ডকালীন গৃহকর্মী মোছা. আয়েশা (২০)কে আসামি করেছেন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল সকাল ৭টা ৫১ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এজাহারে বাদী আজিজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক এবং পরিবারসহ মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। ঘটনার চার দিন আগে অভিযুক্ত গৃহকর্মী তাঁর বাসায় খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন। ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে তিনি কর্মস্থল উত্তরা এলাকায় চলে যান। পরে কর্মস্থলে অবস্থানকালে স্ত্রী লায়লা আফরোজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ পাননি।

এতে সন্দেহ হলে বেলা ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে এসে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তাঁর স্ত্রীর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে ছিলেন। এ সময় তাঁর কন্যা নাফিসা গলার নিচে ডান পাশে কাটা অবস্থায় বাসার প্রধান ফটকের কাছে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে ছিল।

আজিজুল ইসলাম দ্রুত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আশিকের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিসাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বাদীর মেয়ের স্কুল ড্রেস পরিহিত অবস্থায় বাসা থেকে পালিয়ে যান। এ সময় তিনি একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাদী নিশ্চিত হন যে, অজ্ঞাত কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে ছুরি কিংবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করেছেন।

এদিকে মামলার আসামি কথিত গৃহকর্মীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”