ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদীকে গুলির ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল শুক্রবারই ভারতে পালিয়েছেন: গোয়েন্দা সূত্র

শাহারিয়া নয়ন
  • প্রকাশঃ ০৪:০৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 82

ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল শুক্রবার রাতেই অবৈধভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন গুলি চালান এবং মোটরসাইকেল চালিয়ে শরিফ ওসমান হাদীর রিকশার কাছে নিয়ে যান ফয়সাল করিম মাসুদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও রোববার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সূত্র জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে শরিফ ওসমান হাদীর নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ। শুক্রবার সকালে হাদী শিল্পকলা একাডেমি, শান্তিনগর মোড় ও মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে রিকশাযোগে ফেরার পথে তাকে অনুসরণ করেন আলমগীর হোসেন ও ফয়সাল করিম মাসুদ।

দুপুর আনুমানিক ২টা ২৪ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় পেছন দিক থেকে শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়। ঘটনার পরপরই ওই রাতেই সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান ফয়সাল করিম মাসুদ—এমন তথ্য একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় সরাসরি জড়িত মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন বর্তমানে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে অবস্থান করছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে তাদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, হামলাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং একই ধরনের আরও হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একাধিক ‘হিট টিম’ প্রস্তুত থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে ফয়সাল করিম মাসুদ তার ঘনিষ্ঠদের কাছে দাবি করেছেন, ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি একটি গুলির বেশি ছুড়তে পারেননি। তার পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে আলোচিত আরেক ব্যক্তি চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদ। তিনি গত ১৩ মে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যার মামলা রয়েছে। পরে ২৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এ ঘটনায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, আপাতত এই ঘটনায় কোনো বিদেশি বা বৃহৎ রাজনৈতিক চক্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ফয়সাল করিম মাসুদ আদাবর থানার ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্যুটার আলমগীর হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

হাদীকে গুলির ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল শুক্রবারই ভারতে পালিয়েছেন: গোয়েন্দা সূত্র

প্রকাশঃ ০৪:০৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল শুক্রবার রাতেই অবৈধভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন গুলি চালান এবং মোটরসাইকেল চালিয়ে শরিফ ওসমান হাদীর রিকশার কাছে নিয়ে যান ফয়সাল করিম মাসুদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও রোববার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সূত্র জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে শরিফ ওসমান হাদীর নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ। শুক্রবার সকালে হাদী শিল্পকলা একাডেমি, শান্তিনগর মোড় ও মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে রিকশাযোগে ফেরার পথে তাকে অনুসরণ করেন আলমগীর হোসেন ও ফয়সাল করিম মাসুদ।

দুপুর আনুমানিক ২টা ২৪ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় পেছন দিক থেকে শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়। ঘটনার পরপরই ওই রাতেই সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান ফয়সাল করিম মাসুদ—এমন তথ্য একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় সরাসরি জড়িত মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন বর্তমানে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে অবস্থান করছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে তাদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, হামলাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং একই ধরনের আরও হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একাধিক ‘হিট টিম’ প্রস্তুত থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে ফয়সাল করিম মাসুদ তার ঘনিষ্ঠদের কাছে দাবি করেছেন, ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি একটি গুলির বেশি ছুড়তে পারেননি। তার পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে আলোচিত আরেক ব্যক্তি চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদ। তিনি গত ১৩ মে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যার মামলা রয়েছে। পরে ২৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এ ঘটনায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, আপাতত এই ঘটনায় কোনো বিদেশি বা বৃহৎ রাজনৈতিক চক্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ফয়সাল করিম মাসুদ আদাবর থানার ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্যুটার আলমগীর হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”