ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনের স্ত্রী-শ্যালকসহ তিনজন আটক
- প্রকাশঃ ১১:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 95
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের শ্যালক শিপু, স্ত্রী সামিয়া ও বান্ধবী মারিয়া | ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের স্ত্রী, শ্যালক ও এক বান্ধবীকে আটক করেছে র্যাব। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সল করিমের অবস্থান এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব সদরদপ্তরের গণমাধ্যম শাখার একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সল করিমের স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু ও বান্ধবী মারিয়াকে আটক করা হয়। পরে আজ তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেলে থাকা আততায়ী চলন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান | ছবি: সিসিটিভির ফুটেজ থেকে
ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গুলিবর্ষণের ঘটনায় ফয়সল করিম মাসুদকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে ফয়সল করিমের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ছবি পাওয়া গেছে। ছবিতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনের চেহারার মিল রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ফয়সল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তাকারীদের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের একটি অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিও ছিলেন ফয়সল করিম। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, তিনটি মুঠোফোন ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ওই মামলায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ফয়সল করিম। পরে জামিনের মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করলে গত ১২ আগস্ট হাইকোর্ট নতুন করে এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনে থাকার মধ্যেই এবার ওসমান হাদিকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
ফয়সল করিমকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালালেও এখনো তাঁর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






























