ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আড়াই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে লালবাগের অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কারখানা ও আবাসিক ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৫:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 71

লালবাগের প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পরে আশপাশের ভবনে |   ছবি: সংগৃহীত   


রাজধানীর লালবাগে একটি প্লাস্টিক কারখানায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কয়েকটি কারখানা ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, লালবাগের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় প্রথম আগুন লাগে। পরে তা আশপাশের অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকার একাধিক টিনশেড কারখানা, বসতবাড়ি এবং একটি আটতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মোট ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যে কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত সেটি একটি টিনের কাঠামোর ভবন। আশপাশে একাধিক টিনশেড কারখানা ও ভবন রয়েছে। আগুনে কারখানাটির পাশের একটি আটতলা ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ওই ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক মাহফুজা আক্তার জানান, আগুন লাগার পর ভবনের ২৫টি পরিবারের সবাই নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি নিজেও দ্রুত ভবনটি ত্যাগ করেন।

ঘনবসতিপূর্ণ চেয়ারম্যানঘাট এলাকার সরু গলি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়েছে। একটি রিকশা কোনোমতে ঢুকতে পারে এমন সরু গলির কারণে আগুন নির্বাপণে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনাস্থলে এখনও ধোঁয়া ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও কারখানাগুলোতে নির্বাপণের কাজ চলতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও ছয়টি ইউনিট যুক্ত করা হয়। মোট ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই এলাকার রাস্তাগুলো এতটাই সরু যে মানুষ হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। ফলে ফায়ার সার্ভিসকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি আবাসিক না বাণিজ্যিক—কোনো স্পষ্ট ক্যাটাগরিতেই পড়ে না। বিল্ডিং কোড ও অগ্নিনিরাপত্তার কোনো মানদণ্ড এখানে মানা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

আড়াই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে লালবাগের অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কারখানা ও আবাসিক ভবন

প্রকাশঃ ০৫:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

লালবাগের প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পরে আশপাশের ভবনে |   ছবি: সংগৃহীত   


রাজধানীর লালবাগে একটি প্লাস্টিক কারখানায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কয়েকটি কারখানা ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, লালবাগের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় প্রথম আগুন লাগে। পরে তা আশপাশের অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকার একাধিক টিনশেড কারখানা, বসতবাড়ি এবং একটি আটতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মোট ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যে কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত সেটি একটি টিনের কাঠামোর ভবন। আশপাশে একাধিক টিনশেড কারখানা ও ভবন রয়েছে। আগুনে কারখানাটির পাশের একটি আটতলা ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ওই ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক মাহফুজা আক্তার জানান, আগুন লাগার পর ভবনের ২৫টি পরিবারের সবাই নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি নিজেও দ্রুত ভবনটি ত্যাগ করেন।

ঘনবসতিপূর্ণ চেয়ারম্যানঘাট এলাকার সরু গলি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়েছে। একটি রিকশা কোনোমতে ঢুকতে পারে এমন সরু গলির কারণে আগুন নির্বাপণে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনাস্থলে এখনও ধোঁয়া ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও কারখানাগুলোতে নির্বাপণের কাজ চলতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও ছয়টি ইউনিট যুক্ত করা হয়। মোট ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই এলাকার রাস্তাগুলো এতটাই সরু যে মানুষ হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। ফলে ফায়ার সার্ভিসকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি আবাসিক না বাণিজ্যিক—কোনো স্পষ্ট ক্যাটাগরিতেই পড়ে না। বিল্ডিং কোড ও অগ্নিনিরাপত্তার কোনো মানদণ্ড এখানে মানা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”