ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় ভিসা কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণার পর দিল্লিতে তলব বাংলাদেশের হাইকমিশনার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৮:০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 83

বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা


বাংলাদেশে ‘ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের (আইভেক) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারতীয় হাইকমিশন।

তবে ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভেকের কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে চালু থাকবে।

দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকা ও দিল্লিতে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনায় বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আভাস মিলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।

দিল্লিতে তলব

ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জওহরলাল নেহরু ভবনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করা হয়। বাংলাদেশ–মিয়ানমার বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বি শ্যাম তাঁকে তলব করেন। প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী এই বৈঠকে মূলত বাংলাদেশে ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

তলবের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ঘিরে কিছু ‘চরমপন্থী গোষ্ঠী’ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ায় নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—এমন প্রত্যাশা ভারতের।

বাংলাদেশের অবস্থান

ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার দ্ব্যর্থহীনভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানান, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

ঢাকায় ভিসা কেন্দ্র বন্ধ

এর আগে গতকাল ঢাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’-এর ব্যানারে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বেলা দুইটার পর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

নির্বাচন ও দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রায় ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্পর্কের টানাপোড়েনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

নির্বাচন ইস্যুতে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রতিবেশী দেশের ‘নসিহত’ প্রত্যাশা করে না। অন্তর্বর্তী সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতের ১৫ বছরে যেসব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সে সময় ভারত কোনো আপত্তি তোলে নি। এখন একটি ভালো নির্বাচনের পথে এগোতে গিয়ে উপদেশ দেওয়াকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক কোন পথে অগ্রসর হবে, তা নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থা, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ঢাকায় ভিসা কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণার পর দিল্লিতে তলব বাংলাদেশের হাইকমিশনার

প্রকাশঃ ০৮:০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা


বাংলাদেশে ‘ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের (আইভেক) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারতীয় হাইকমিশন।

তবে ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভেকের কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে চালু থাকবে।

দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকা ও দিল্লিতে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনায় বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আভাস মিলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।

দিল্লিতে তলব

ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জওহরলাল নেহরু ভবনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করা হয়। বাংলাদেশ–মিয়ানমার বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বি শ্যাম তাঁকে তলব করেন। প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী এই বৈঠকে মূলত বাংলাদেশে ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

তলবের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ঘিরে কিছু ‘চরমপন্থী গোষ্ঠী’ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ায় নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—এমন প্রত্যাশা ভারতের।

বাংলাদেশের অবস্থান

ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার দ্ব্যর্থহীনভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানান, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ভারতীয় মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

ঢাকায় ভিসা কেন্দ্র বন্ধ

এর আগে গতকাল ঢাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’-এর ব্যানারে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বেলা দুইটার পর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

নির্বাচন ও দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রায় ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্পর্কের টানাপোড়েনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

নির্বাচন ইস্যুতে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রতিবেশী দেশের ‘নসিহত’ প্রত্যাশা করে না। অন্তর্বর্তী সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতের ১৫ বছরে যেসব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সে সময় ভারত কোনো আপত্তি তোলে নি। এখন একটি ভালো নির্বাচনের পথে এগোতে গিয়ে উপদেশ দেওয়াকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক কোন পথে অগ্রসর হবে, তা নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থা, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”