এনসিপি নেত্রী জান্নাতারা রুমীর মরদেহ উদ্ধার: যা বলছে পুলিশ ও স্বজন
- প্রকাশঃ ০৮:২৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 85
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধানমন্ডি থানা কমিটির যুগ্ম সম্বয়ক ছিলেন জান্নাতারা রুমী । ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
রাজধানীর জিগাতলার একটি নারী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমীর (৩০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানামুখী আলোচনা চলছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও এনসিপির নেতারা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন।
জান্নাতারা রুমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি জিগাতলার ওই হোস্টেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে একা থাকতেন।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হোস্টেলের গৃহকর্মী ডাকাডাকি করেও জান্নাতারার কোনো সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। একপর্যায়ে হার্ডবোর্ডের দরজার ছিটকিনি খুলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জান্নাতারাকে ঝুলন্ত দেখা যায়। পরে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, জান্নাতারার কক্ষ থেকে বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জান্নাতারার দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এসব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
জান্নাতারার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভায়। তাঁর বাবা জাকির হোসেন পেশায় কৃষক। তিনি এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান ঢাকায় ছুটে আসেন। দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে তিনি জানান, জান্নাতারার দুই ঘরে একটি ছেলে (৪) ও একটি মেয়ে (২) রয়েছে। সন্তানরা তাদের নিজ নিজ বাবার কাছে থাকে।
মেহেদী হাসান বলেন, দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাতারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তাঁর ধারণা, এই মানসিক চাপ থেকেই জান্নাতারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জান্নাতারা সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মেডিকেল কলেজ থেকে নার্সিং পাস করেন এবং নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
জান্নাতারা এনসিপির ধানমন্ডি থানা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক ছিলেন। তাঁকে শেষবার দেখতে বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ দলের একাধিক নেতা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে যান। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জান্নাতারার ঝুলন্ত মরদেহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, কত বড় একটি শত্রুর বিপক্ষে তারা লড়াই করছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের সমর্থিত বিভিন্ন পেজ থেকে জান্নাতারাকে ‘হিট লিস্টে’ রয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
সামান্তা শারমিন বলেন, প্রকাশ্য হুমকি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জান্নাতারার মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করেন, গত মাসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে একটি ঘটনায় জড়িত নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের এক ব্যক্তিকে জান্নাতারা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই তিনি সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকির মুখে পড়েন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কারণেই জান্নাতারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
পোস্টে তারেক রেজা লেখেন, ‘আমরা এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই। এটি একটি হত্যাকাণ্ড।’
এদিকে, ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জান্নাতারার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর গলায় দাগ রয়েছে, তবে মাথা, কপাল, গাল বা শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সন্ধ্যায় স্বজনেরা জান্নাতারার মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে যান।





























