ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ অংশগ্রহণ
- প্রকাশঃ ১২:৫১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 92
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার আগে পুরো অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। উপস্থিতরা আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো এবং হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না স্লোগান দিয়ে তাদের শোক ও বিচার দাবির জোরালো প্রতিফলন দেখাচ্ছেন।
শহীদ হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশেপাশের সমস্ত প্রবেশপথে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ টহলে উপস্থিত রয়েছে সেনাবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে হাদির সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে মরদেহ জানাজার মাঠে আনা হয়েছে। দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বাদ জোহর জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হবে।
হাদির ময়নাতদন্ত পূর্বে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তিনি সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহসের এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। আজ তার প্রতিফলন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। বিকালেই কবি নজরুলের সমাধি সংলগ্ন এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন হবে।


























