ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুদানে শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 93

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ অবশেষে স্বদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ সেনাদের মরদেহ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গত ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানের আবেই সীমান্তে অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে অতর্কিত ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় এই ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন। মরদেহগুলো দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সামরিক মর্যাদায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেব্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই হামলায় ছয়জন শহীদ হওয়ার পাশাপাশি আরও আটজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হন।

নিহত শহীদরা হলেন— নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান। আহতদের বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ সুদানে ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই (ইউএনআইএসএফএ) মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী ব্যাটালিয়ন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও বীরত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিমানবন্দরে শহীদদের কফিন গ্রহণের সময় সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শোকাহত স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ জেলা ও গ্রামে দাফনের জন্য পাঠানো হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শহীদদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

দক্ষিণ সুদানে শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে

প্রকাশঃ ০১:০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ অবশেষে স্বদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ সেনাদের মরদেহ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গত ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানের আবেই সীমান্তে অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে অতর্কিত ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় এই ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন। মরদেহগুলো দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সামরিক মর্যাদায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেব্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই হামলায় ছয়জন শহীদ হওয়ার পাশাপাশি আরও আটজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হন।

নিহত শহীদরা হলেন— নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান। আহতদের বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ সুদানে ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই (ইউএনআইএসএফএ) মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী ব্যাটালিয়ন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও বীরত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিমানবন্দরে শহীদদের কফিন গ্রহণের সময় সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শোকাহত স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ জেলা ও গ্রামে দাফনের জন্য পাঠানো হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শহীদদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”