ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাংশায় চাঁদাবাজির সময় গণপিটুনিতে কুখ্যাত ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১২:১৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 77

পাংশা মডেল থানা। ফাইল ছবি


রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় সম্রাটের অন্যতম সহযোগী সেলিমকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিহত সম্রাট হোসেনডাঙ্গা গ্রামের অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নিজের নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে পাংশা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। বেশ কিছুদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

বুধবার রাতে সম্রাট তার সশস্ত্র সহযোগীদের নিয়ে ওই এলাকার একটি বাড়িতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতে যান। বাড়ির লোকজন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সম্রাট ও তার বাহিনী ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে বাড়ির বাসিন্দারা ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতা সম্রাটকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার বাহিনীর অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও সেলিম নামে একজনকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুটি অস্ত্রসহ সহযোগী সেলিমকে আটক করে।

ওসি আরও বলেন, “নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি অত্র অঞ্চলের একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

দীর্ঘদিনের ত্রাস সম্রাটের মৃত্যুর খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সম্রাট বাহিনীর অত্যাচারে হোসেনডাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। তার অবসান ঘটায় এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

পাংশায় চাঁদাবাজির সময় গণপিটুনিতে কুখ্যাত ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান নিহত

প্রকাশঃ ১২:১৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পাংশা মডেল থানা। ফাইল ছবি


রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘সম্রাট বাহিনী’র প্রধান অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় সম্রাটের অন্যতম সহযোগী সেলিমকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিহত সম্রাট হোসেনডাঙ্গা গ্রামের অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নিজের নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে পাংশা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। বেশ কিছুদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

বুধবার রাতে সম্রাট তার সশস্ত্র সহযোগীদের নিয়ে ওই এলাকার একটি বাড়িতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতে যান। বাড়ির লোকজন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সম্রাট ও তার বাহিনী ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে বাড়ির বাসিন্দারা ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতা সম্রাটকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার বাহিনীর অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও সেলিম নামে একজনকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুটি অস্ত্রসহ সহযোগী সেলিমকে আটক করে।

ওসি আরও বলেন, “নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি অত্র অঞ্চলের একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

দীর্ঘদিনের ত্রাস সম্রাটের মৃত্যুর খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সম্রাট বাহিনীর অত্যাচারে হোসেনডাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। তার অবসান ঘটায় এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।