ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে ফেরা, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১২:১৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 75

গণসংবর্ধনার মঞ্চে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলে। ছবি: সংগৃহীত      


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর জুলাই–৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্বসহকারে তার দেশে ফেরার খবর প্রকাশ করেছে। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্স

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে— ‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এএফপি

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, বিপুলসংখ্যক উচ্ছ্বসিত সমর্থকের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন।

বিবিসি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান। বিএনপি তাঁর নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আল-জাজিরা

আল-জাজিরা জানায়, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকা বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান ঢাকায় ফিরেছেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরা হয়।

দ্য হিন্দু

ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দু জানায়, জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিবেদনে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

ডন ও এনডিটিভি

পাকিস্তানের ডন ও ভারতের এনডিটিভি জানায়, দীর্ঘ নির্বাসনের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ঘটনা। দলটির আশা, তাঁর প্রত্যাবর্তন নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে ফেরা, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব

প্রকাশঃ ১২:১৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

গণসংবর্ধনার মঞ্চে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলে। ছবি: সংগৃহীত      


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর জুলাই–৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্বসহকারে তার দেশে ফেরার খবর প্রকাশ করেছে। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্স

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে— ‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এএফপি

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, বিপুলসংখ্যক উচ্ছ্বসিত সমর্থকের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন।

বিবিসি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান। বিএনপি তাঁর নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আল-জাজিরা

আল-জাজিরা জানায়, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকা বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান ঢাকায় ফিরেছেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরা হয়।

দ্য হিন্দু

ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দু জানায়, জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিবেদনে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

ডন ও এনডিটিভি

পাকিস্তানের ডন ও ভারতের এনডিটিভি জানায়, দীর্ঘ নির্বাসনের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ঘটনা। দলটির আশা, তাঁর প্রত্যাবর্তন নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।