চুরির অভিযোগে নির্মম নির্যাতন শেষে কারা হেফাজতে ভ্যানচালকের মৃত্যু
- প্রকাশঃ ১২:৫২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 100
ওমর ফারুক। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় চুরির অভিযোগে মারধরের পর কারা হেফাজতে ভ্যানচালক ওমর ফারুকের (৩৯) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে বাগমারা থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—দেউলা গ্রামের রেজাউল করিম (৪৭), বিপ্লব ওরফে ভুট্ট ড্রাইভার (৩৫), রহিদুল ইসলাম (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দানগাছি গ্রামের মুকুল হোসেন ওরফে মুরগি মুকুল (৪৪), জুয়েল রানা ওরফে ভাংড়ি জুয়েল (৩৫), দরগামাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ভবানীগঞ্জের আসাদুল ইসলাম (৩৬), আবদুস সালাম (৪৮), মোজাম্মেল হক (৪২) ও আবদুল হান্নান (৩৮)।
পুলিশ জানায়, আসামিদের মধ্যে তিনজনকে গত ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে মুকুল হোসেনকে থানায় এনে ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্য দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রেখে প্রস্রাব করতে যান ওমর ফারুক। ফিরে এলে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন তাঁকে আটক করেন। তাঁদের নির্দেশে সমিতির সদস্যরা লোহার রড দিয়ে ওমর ফারুককে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এরপর তাঁকে একটি প্রাচীরের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে উভয় হাত ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে পানি পান করতে চাইলে তাঁকে নদীতে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে চুবানো হয়। পরে তাঁর পায়ুপথে শুকনা মরিচের গুঁড়া ঢেলে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্যাতনের ফলে ওমর ফারুকের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে আসামিরা তাঁর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভুঞাকে বিষয়টি জানান। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওমর ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে তাঁকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর পুলিশ ওমর ফারুককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসক সাকলাইন হোসেন বলেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন ছিল, তবে সে সময় গুরুতর কিছু মনে হয়নি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভুঞা বলেন, ওমর ফারুকের কাছে গাঁজা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়। তবে সাজা দেওয়ার আগে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন ওমর ফারুক সামান্য অসুস্থ ছিলেন এবং শরীরে রক্তাক্ত কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু জাহিদ শেখ বলেন, মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আগে আটক হয়ে ছেড়ে দেওয়া মুকুল হোসেনকেও পুনরায় গ্রেপ্তার করা হবে।






























