জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছে গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ থাকা ছাত্রলীগ নেতা
- প্রকাশঃ ০৯:০৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 89
ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের মেয়াদ চলতি মাসের ১৫ ডিসেম্বর শেষ হলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে—২৯ নভেম্বর—তিনি একটি নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করেন। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে বোর্ড ডেকে চেয়ারম্যান নিজের ‘পছন্দের প্রার্থী’ নিয়োগের সুপারিশ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক বিতর্ক ও অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জকসু নির্বাচনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে অতি গোপনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হকের সঙ্গে অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দাবি করছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গবেষণায় অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ‘জুলাই গণহত্যা’ বিষয়ক রায়ের বিরুদ্ধে ‘এক হাজার একজন শিক্ষক’-এর বিবৃতিতে অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের নাম থাকার কথাও কয়েকজন শিক্ষক উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এসব বিতর্ক সত্ত্বেও প্রশাসনের নীরবতা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাওন শেখ, জবি শিক্ষার্থী মৌসুমি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাওহে মাহফুজ—এই তিনজনকে দর্শন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যৌথভাবে করা একটি গবেষণা প্রবন্ধে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শিক্ষার্থী শাওন শেখ। এ অভিযোগে তার নিয়োগ বাতিল ও নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি আবেদনও জমা পড়েছে। তবে এসবের পরও আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিতর্কিত এই নিয়োগ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জবি দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।



























