জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত
- প্রকাশঃ ১২:২৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 56
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় শনাক্তে চলমান ফরেনসিক কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে সোমবার (৫ জানুয়ারি) অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় উদ্ঘাটনে মোট ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমের মাধ্যমে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন শহিদ ফয়সাল সরকার, শহিদ পারভেজ বেপারী, শহিদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহিদ মাহিম, শহিদ সোহেল রানা, শহিদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত একাধিক নারী ও পুরুষ শহীদের অজ্ঞাতনামা মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশকে দেওয়া হয়।
মানবাধিকার ও মানবিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ডা. মরিস টিডবল-বিনজকে পুরো কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর বিজ্ঞ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ইউএনএইচআরসির সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে এবং মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।
এ পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনার সঙ্গে মরদেহ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সিআইডি জানায়, পুরো কার্যক্রম আইন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে।





























