ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যাকাণ্ড ফয়সাল দুবাই নয়, ভারতে অবস্থান করছে: ডিবিপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৮:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 80

জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিবিপ্রধান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিওবার্তাটি সঠিক হলেও তার অবস্থান দুবাই নয়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

এর আগে ভিডিওবার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি দুবাইয়ে আছেন এবং হাদি হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না—এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়।

হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানান ডিবিপ্রধান। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন-গুলি চালানো ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, পলায়নে সহায়তাকারী মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। ভবিষ্যতে তদন্তে নতুন কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনের এক পরিচিত মুখ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন। এসব বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভুক্তভোগীর রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে যাওয়ার সময় রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

হাদি হত্যাকাণ্ড ফয়সাল দুবাই নয়, ভারতে অবস্থান করছে: ডিবিপ্রধান

প্রকাশঃ ০৮:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিবিপ্রধান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিওবার্তাটি সঠিক হলেও তার অবস্থান দুবাই নয়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

এর আগে ভিডিওবার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি দুবাইয়ে আছেন এবং হাদি হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না—এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়।

হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানান ডিবিপ্রধান। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন-গুলি চালানো ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, পলায়নে সহায়তাকারী মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। ভবিষ্যতে তদন্তে নতুন কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনের এক পরিচিত মুখ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন। এসব বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভুক্তভোগীর রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে যাওয়ার সময় রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”