ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ ইরফানুল বারী আর নেই

মো:জিসান রহমান । মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৮:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক, বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক এবং মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ ইরফানুল বারী ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাসভবনেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৪৫ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা সৈয়দ ইরফানুল বারী ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৯৬৭ সালে মাওলানা ভাসানীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনকল্যাণমূলক রাজনীতিতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেন।

১৯৬৯ সাল থেকে তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ভাসানীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামী জীবনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হন।

দীর্ঘ সময় দেশ ও বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও তিনি কখনো সন্তোষ আশ্রমকেন্দ্রিক ভাসানীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ত্যাগ, মানবিক রাজনীতি ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দর্শনই ছিল তাঁর জীবনচিন্তার মূল ভিত্তি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্স চালুর পর থেকেই শিক্ষক হিসেবে সৈয়দ ইরফানুল বারী শিক্ষার্থীদের কাছে মাওলানা ভাসানীর আন্দোলন, সংগ্রাম ও দিকনির্দেশনামূলক রাজনৈতিক চিন্তাধারা তুলে ধরতেন। তাঁর পাঠদান ও গবেষণা ভাসানী চর্চাকে একাডেমিক পর্যায়ে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সহকর্মীরা।

সৈয়দ ইরফানুল বারীর মৃত্যুতে মাভাবিপ্রবি পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শিক্ষক–শিক্ষার্থী, গবেষক ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেছেন, তাঁর মৃত্যু ভাসানী গবেষণা ও রাজনৈতিক চিন্তাচর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর জীবন, গবেষণা ও লেখালেখি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ ইরফানুল বারী আর নেই

প্রকাশঃ ০৮:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক, বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক এবং মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ ইরফানুল বারী ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাসভবনেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৪৫ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা সৈয়দ ইরফানুল বারী ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৯৬৭ সালে মাওলানা ভাসানীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনকল্যাণমূলক রাজনীতিতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেন।

১৯৬৯ সাল থেকে তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ভাসানীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামী জীবনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হন।

দীর্ঘ সময় দেশ ও বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও তিনি কখনো সন্তোষ আশ্রমকেন্দ্রিক ভাসানীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ত্যাগ, মানবিক রাজনীতি ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দর্শনই ছিল তাঁর জীবনচিন্তার মূল ভিত্তি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্স চালুর পর থেকেই শিক্ষক হিসেবে সৈয়দ ইরফানুল বারী শিক্ষার্থীদের কাছে মাওলানা ভাসানীর আন্দোলন, সংগ্রাম ও দিকনির্দেশনামূলক রাজনৈতিক চিন্তাধারা তুলে ধরতেন। তাঁর পাঠদান ও গবেষণা ভাসানী চর্চাকে একাডেমিক পর্যায়ে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সহকর্মীরা।

সৈয়দ ইরফানুল বারীর মৃত্যুতে মাভাবিপ্রবি পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শিক্ষক–শিক্ষার্থী, গবেষক ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেছেন, তাঁর মৃত্যু ভাসানী গবেষণা ও রাজনৈতিক চিন্তাচর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর জীবন, গবেষণা ও লেখালেখি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”