চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা
- প্রকাশঃ ০৯:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 50
স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপককে কেন্দ্র থেকে অবরুদ্ধ করে নেওয়া, শিক্ষক-ছাত্র সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে শিক্ষককে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাড়া করা হয় এবং তাঁর মুঠোফোনেও তল্লাশি চালানো হয়।
হেনস্তার শিকার শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি ক্যাম্পাসে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘হলুদ দলের’ একাংশের সঙ্গে
যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টরও। দুপুর পৌনে তিনটা পর্যন্ত তিনি প্রক্টর অফিসে অবস্থান করছেন, যেখানে প্রক্টরিয়াল বডি ও চাকসু নেতারা তাঁর মুঠোফোনে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে কয়েকজন ছাত্র টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁকে পেছন থেকে চেপে ধরে তোলা হচ্ছে। সেখানে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রক্টর অফিসে অবরুদ্ধ সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ। আজ দুপুরে তোলাছ
অবস্থানাবস্থা বর্ণনা করে হাসান মোহাম্মদ বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরও আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি এবং আমার বিরুদ্ধে মব তৈরি করা হয়েছে।
চাকসুর নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি দাবি করেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল এবং তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরা জানান, শিক্ষক পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করায় অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়েছিল।
শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ দাবি করেন, আমি কোনো আন্দোলনে অংশ নিইনি এবং কাউকে মামলা দেওয়ার মতো দায়িত্বও পালন করিনি।
পরীক্ষার দায়িত্ব প্রসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সিন্ডিকেট থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত না আসে, ততক্ষণ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন, ঘটনার খোঁজ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বেতন বন্ধ রয়েছে। কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, তা স্পষ্ট নয়।



























