ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থপাচারের অভিযোগ সত্ত্বেও এনবিআরের সচিব হচ্ছেন আল আমিন প্রামাণিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৭:০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 74

রাজস্ব খাতে গতি আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি জানুয়ারিতেই এই কাঠামোর আওতায় এনবিআরে বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে, যেখানে দুই বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন দুইজন সচিব। তবে এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনবিআরের কাস্টমস, নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক একটি বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর অর্থপাচারের অভিযোগ।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে পাচার করেছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাড়ে সাত কোটি টাকার সমপরিমাণ। বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক ও কমনওয়েলথ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুধু নিজের নামেই নয়, অভিযুক্ত এনবিআর সদস্য তাঁর স্ত্রীর নামেও অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় তাঁর স্ত্রী সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আল আমিন প্রামাণিককে এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে বসানোর উদ্যোগ প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, যার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে রাষ্ট্রের রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থপাচারের অভিযোগ কার্যত অগ্রগতি ছাড়াই ঝুলে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল ও অবৈধ অর্থের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলছে, যাতে করে সচিব পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত এনবিআর সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

অর্থপাচারের অভিযোগ সত্ত্বেও এনবিআরের সচিব হচ্ছেন আল আমিন প্রামাণিক

প্রকাশঃ ০৭:০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজস্ব খাতে গতি আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি জানুয়ারিতেই এই কাঠামোর আওতায় এনবিআরে বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে, যেখানে দুই বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন দুইজন সচিব। তবে এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনবিআরের কাস্টমস, নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক একটি বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর অর্থপাচারের অভিযোগ।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে পাচার করেছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাড়ে সাত কোটি টাকার সমপরিমাণ। বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক ও কমনওয়েলথ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুধু নিজের নামেই নয়, অভিযুক্ত এনবিআর সদস্য তাঁর স্ত্রীর নামেও অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় তাঁর স্ত্রী সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আল আমিন প্রামাণিককে এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে বসানোর উদ্যোগ প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, যার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে রাষ্ট্রের রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থপাচারের অভিযোগ কার্যত অগ্রগতি ছাড়াই ঝুলে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল ও অবৈধ অর্থের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলছে, যাতে করে সচিব পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত এনবিআর সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”