ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলন্ত বাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ, চালক-হেলপারসহ আটক ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 43

চলন্ত বাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে বাসের চালক ও হেলপারসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ‘তিশা-প্লাটিনাম’ নামের বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাসের হেলপার মামুন হোসেন (৩১), চালক আল আমিন (২৬) এবং অপর তিনজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে তিশা-প্লাটিনাম বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর নিজের আসনে সমস্যার কথা জানালে হেলপার সিট ঠিক করার অজুহাতে তার শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পদুয়ারবাজার এলাকায় গিয়ে বাসটি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বাস মালিকের পক্ষে কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজন অস্ত্রধারীকে আটক করে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করে বাসসহ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের দুজনকেও সদর দক্ষিণ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, সিটে সমস্যা থাকায় আমরা হেলপারকে ডেকেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সরতে না দিয়ে শরীরের ওপর দিয়েই সিট ঠিক করতে যান এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অশালীন স্পর্শ করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হেলপার মামুন হোসেন বলেন, চলন্ত বাসে হঠাৎ ব্রেক করলে তারা পড়ে যেতে পারে ভেবে উঠতে বলিনি। সিট ঠিক করতে গিয়ে আমার বাম হাতের কনুই তাদের গায়ে লেগে যায়। এ নিয়ে তারা আমাকে ধমকায়। আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম। পরে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে এসে হঠাৎ কিছু লোক আমাকে মারধর করে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাইনোদ্দোউল্লা ফেরদৌস বলেন, ট্রিপল নাইনে অভিযোগ আসে যে, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে মিরসরাই এলাকায় ‘তিশা প্লাটিনাম’ বাসের ড্রাইভার ও হেলপার একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটান। এরপর শিক্ষার্থীরা পদুয়ারবাজার এলাকায় অবস্থান নেন এবং বাসটি সিগন্যাল দিলে সেটি না থামায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

চলন্ত বাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ, চালক-হেলপারসহ আটক ৫

প্রকাশঃ ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

চলন্ত বাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে বাসের চালক ও হেলপারসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ‘তিশা-প্লাটিনাম’ নামের বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাসের হেলপার মামুন হোসেন (৩১), চালক আল আমিন (২৬) এবং অপর তিনজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে তিশা-প্লাটিনাম বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর নিজের আসনে সমস্যার কথা জানালে হেলপার সিট ঠিক করার অজুহাতে তার শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পদুয়ারবাজার এলাকায় গিয়ে বাসটি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বাস মালিকের পক্ষে কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজন অস্ত্রধারীকে আটক করে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করে বাসসহ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের দুজনকেও সদর দক্ষিণ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, সিটে সমস্যা থাকায় আমরা হেলপারকে ডেকেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সরতে না দিয়ে শরীরের ওপর দিয়েই সিট ঠিক করতে যান এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অশালীন স্পর্শ করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হেলপার মামুন হোসেন বলেন, চলন্ত বাসে হঠাৎ ব্রেক করলে তারা পড়ে যেতে পারে ভেবে উঠতে বলিনি। সিট ঠিক করতে গিয়ে আমার বাম হাতের কনুই তাদের গায়ে লেগে যায়। এ নিয়ে তারা আমাকে ধমকায়। আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম। পরে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে এসে হঠাৎ কিছু লোক আমাকে মারধর করে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাইনোদ্দোউল্লা ফেরদৌস বলেন, ট্রিপল নাইনে অভিযোগ আসে যে, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে মিরসরাই এলাকায় ‘তিশা প্লাটিনাম’ বাসের ড্রাইভার ও হেলপার একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটান। এরপর শিক্ষার্থীরা পদুয়ারবাজার এলাকায় অবস্থান নেন এবং বাসটি সিগন্যাল দিলে সেটি না থামায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”