ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত ঘটনার জেরে ডাকসু সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্বমিত্র চাকমার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 39

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৬ তারিখ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামের পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বহিরাগতদের দ্বারা নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার কিংবা বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে নিয়মিত বহিরাগতরা মাঠে প্রবেশ করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হন তিনি। তবে এ পদ্ধতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনুচিত বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি। এ ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারো প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন, আমি তা পূরণ করতে পারিনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়েই আমি পদত্যাগ করছি।

এ ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

বিতর্কিত ঘটনার জেরে ডাকসু সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্বমিত্র চাকমার

প্রকাশঃ ০২:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৬ তারিখ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানোর দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামের পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বহিরাগতদের দ্বারা নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার কিংবা বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে নিয়মিত বহিরাগতরা মাঠে প্রবেশ করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হন তিনি। তবে এ পদ্ধতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনুচিত বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি। এ ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারো প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন, আমি তা পূরণ করতে পারিনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়েই আমি পদত্যাগ করছি।

এ ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”