নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, পঞ্চগড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
- প্রকাশঃ ০৩:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 41
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা–কর্মীরা।
আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোয়া পাঁচটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মাটিতে বসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা।
এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে জোটের নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন।
রাত সোয়া ১০টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চগড় শহর শাখার সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন সরকার বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে বলেন, “আমরা পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগসহ পাঁচটি দাবি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চেয়েছে। এ কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলো। দাবি মানা না হলে সকাল ১০টা থেকে আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীর ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ করা হলেও পঞ্চগড়-১ (পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমিরের ব্যানার ও ফেস্টুন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো অপসারণ করা হয়নি। এতে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন। সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে পঞ্চগড়-১ আসনের ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপি নেতা সারজিস আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চগড় জেলা শাখার আমির ইকবাল হোসাইন সেখানে যোগ দেন। তাঁরা কিছু সময় অবস্থান করে পরে চলে যান।
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যরা কাছাকাছি অবস্থান করলেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কোনো কর্মকর্তা বের হয়ে আসেননি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে রাত সোয়া আটটার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর যেসব ব্যানার ও ফেস্টুন গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ছিল, সেগুলো আগেই অপসারণ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যেগুলোর বিষয়ে অভিযোগ করেছেন, সেগুলো নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, সেগুলো ফেস্টুন নয়, ব্যানার—আর ব্যানার বৈধ। এই বিষয়টি ইতিমধ্যে এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনকে জানানো হয়েছে।





























