ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: পোশাককর্মীদের ৫০ ঘর ছাই, ছুটে এসে দেখলেন সব পুড়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 40

আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ঘর। সেখানে এসে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় কিছু পান কিনা। আজ সকাল পৌনে দশটার দিকে চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় কেডিএস কারখানার পাশে রেললাইন সংলগ্ন করিম কলোনিতে| ছবি: সংগৃহীত


চট্টগ্রাম মহানগরের অক্সিজেন এলাকার কেডিএস কারখানার পাশে রেললাইন–সংলগ্ন করিম কলোনিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ৫০টি ঘর। সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসের শঙ্কায় পড়েছেন পোশাককর্মীসহ কম আয়ের পরিবারগুলো।

পোশাককর্মী রিমু আক্তার প্রতিদিনের মতো কাজে ছিলেন পাশের কেডিএস কারখানায়। কারখানার দূরত্ব বাড়ি থেকে মাত্র ছয় শ গজ। হঠাৎই চারদিকে ধোঁয়া দেখে অ্যালার্ম বাজতে থাকে। বাইরে বের হয়ে তিনি দেখেন, রেললাইন-সংলগ্ন কলোনিতে লেলিহান আগুন—যেখানে ছিল তাঁর ঘর। দৌড়ে গিয়ে দেখেন, সব কিছুই পুড়ে যাচ্ছে।
বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, একটা কাপড়ও বের করতে পারিনি। বাসন, ডেকচি, জমানো টাকা—সব পুড়ে গেছে। পরনের শাড়িটুকুই আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ কলোনির ভেতর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কেডিএস কারখানার অ্যালার্ম বেজে ওঠায় অনেকেই প্রথমে মনে করেছিলেন, আগুন কারখানায় লেগেছে। পরে দেখা যায়, পাশের কলোনিই আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে। কেডিএস কারখানার অগ্নিনির্বাপণ দল প্রথমে চেষ্টা চালায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কেডিএস কারখানার জুনিয়ার নির্বাহী (অর্থ) গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধোঁয়া দেখে অ্যালার্ম বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। পরে দেখি আগুন কলোনিতে লেগেছে। শুরুতে আমাদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। ফায়ার সার্ভিস এসে পুরো নিয়ন্ত্রণে আনে। চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছেন।’

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, আগুনে ৫০টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা। আমরা এক কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করতে পেরেছি।

রিমুর মতো ফাহিমা আক্তারও সব হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নেই। আজ রাতে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতে হবে।

পোশাককর্মী জিন্নাত আক্তার জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী সকালে কাজে যাওয়ার পর ঘরে ছিলেন তাঁদের অসুস্থ আট বছরের ছেলে সাব্বির। আগুন লাগার পর প্রতিবেশীরা দ্রুত শিশুটিকে বের করে না আনলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জরুরি পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: পোশাককর্মীদের ৫০ ঘর ছাই, ছুটে এসে দেখলেন সব পুড়ে গেছে

প্রকাশঃ ০৩:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ঘর। সেখানে এসে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় কিছু পান কিনা। আজ সকাল পৌনে দশটার দিকে চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় কেডিএস কারখানার পাশে রেললাইন সংলগ্ন করিম কলোনিতে| ছবি: সংগৃহীত


চট্টগ্রাম মহানগরের অক্সিজেন এলাকার কেডিএস কারখানার পাশে রেললাইন–সংলগ্ন করিম কলোনিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ৫০টি ঘর। সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসের শঙ্কায় পড়েছেন পোশাককর্মীসহ কম আয়ের পরিবারগুলো।

পোশাককর্মী রিমু আক্তার প্রতিদিনের মতো কাজে ছিলেন পাশের কেডিএস কারখানায়। কারখানার দূরত্ব বাড়ি থেকে মাত্র ছয় শ গজ। হঠাৎই চারদিকে ধোঁয়া দেখে অ্যালার্ম বাজতে থাকে। বাইরে বের হয়ে তিনি দেখেন, রেললাইন-সংলগ্ন কলোনিতে লেলিহান আগুন—যেখানে ছিল তাঁর ঘর। দৌড়ে গিয়ে দেখেন, সব কিছুই পুড়ে যাচ্ছে।
বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, একটা কাপড়ও বের করতে পারিনি। বাসন, ডেকচি, জমানো টাকা—সব পুড়ে গেছে। পরনের শাড়িটুকুই আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ কলোনির ভেতর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কেডিএস কারখানার অ্যালার্ম বেজে ওঠায় অনেকেই প্রথমে মনে করেছিলেন, আগুন কারখানায় লেগেছে। পরে দেখা যায়, পাশের কলোনিই আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে। কেডিএস কারখানার অগ্নিনির্বাপণ দল প্রথমে চেষ্টা চালায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কেডিএস কারখানার জুনিয়ার নির্বাহী (অর্থ) গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধোঁয়া দেখে অ্যালার্ম বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। পরে দেখি আগুন কলোনিতে লেগেছে। শুরুতে আমাদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। ফায়ার সার্ভিস এসে পুরো নিয়ন্ত্রণে আনে। চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছেন।’

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, আগুনে ৫০টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা। আমরা এক কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করতে পেরেছি।

রিমুর মতো ফাহিমা আক্তারও সব হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নেই। আজ রাতে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতে হবে।

পোশাককর্মী জিন্নাত আক্তার জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী সকালে কাজে যাওয়ার পর ঘরে ছিলেন তাঁদের অসুস্থ আট বছরের ছেলে সাব্বির। আগুন লাগার পর প্রতিবেশীরা দ্রুত শিশুটিকে বের করে না আনলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জরুরি পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”