ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের সম্পত্তির প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি ছিল—আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 96

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়ম করে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিয়মমাফিক প্লট বরাদ্দের কোনো আবেদন না করলেও পরবর্তীতে দখল বুঝে পেতে আবেদন করেছেন। এতে তাঁর জনগণের সম্পত্তির প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি স্পষ্ট হয়েছে।

বিচারক আরও বলেন, “নিজের নামে প্লট নেওয়ার পর তিনি ছেলে, মেয়ে, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিক এবং ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামেও প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জনগণের সম্পদের প্রতি তাঁর লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।”

প্রসঙ্গত, গত বছরের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তাঁর সন্তানরা পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক মামলার পটভূমি তুলে ধরে বলেন, “প্লট দুর্নীতির বিষয়টি সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমেই সামনে আসে। মিডিয়া যে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, এই মামলার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। মিডিয়ার রিপোর্ট না থাকলে দুদক কখনো এই মামলা করত না।”

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর পরিবারের নামে পূর্বাচলের ছয়টি প্লট বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ১০ কাঠা। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এ বছরের শুরুতে ছয়টি মামলা করা হয়। আজ রায় হয় শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সন্তানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটির।

আদালত বলেন, “প্লট বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কোনো প্রকার আবেদন ছাড়াই, যা দুদক আইনের পঞ্চম ধারা লঙ্ঘন করে।”

বিচারক জানান, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ উদ্দিন আহমেদ আইন না মেনে শেখ হাসিনার প্লট বরাদ্দের অনুমোদন দেন। এরপর সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকারসহ অন্য কর্মকর্তারা রাজউককে প্লট বরাদ্দের সুপারিশ করেন। পরদিন রাজউকের বোর্ড সভায় নিয়ম না মেনে বরাদ্দ অনুমোদন হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, প্লট বরাদ্দের জন্য যে হলফনামা জমা দেওয়া হয়, তা নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত ছিল না। এছাড়া শেখ হাসিনা তাঁর স্বামী কর্তৃক ১৯৭৩ সালে প্রাপ্ত প্লটের তথ্য গোপন করেছেন। বিচারক বলেন, হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নামে কোনো প্লট নেই—এটা প্রতারণা।

রাজউক নোটারি ছাড়া হলফনামা গ্রহণ করে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট তাঁকে প্লট বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা প্লট হস্তান্তরের জন্য আবেদনও করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

জনগণের সম্পত্তির প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি ছিল—আদালত

প্রকাশঃ ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়ম করে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিয়মমাফিক প্লট বরাদ্দের কোনো আবেদন না করলেও পরবর্তীতে দখল বুঝে পেতে আবেদন করেছেন। এতে তাঁর জনগণের সম্পত্তির প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি স্পষ্ট হয়েছে।

বিচারক আরও বলেন, “নিজের নামে প্লট নেওয়ার পর তিনি ছেলে, মেয়ে, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিক এবং ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামেও প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জনগণের সম্পদের প্রতি তাঁর লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।”

প্রসঙ্গত, গত বছরের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তাঁর সন্তানরা পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক মামলার পটভূমি তুলে ধরে বলেন, “প্লট দুর্নীতির বিষয়টি সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমেই সামনে আসে। মিডিয়া যে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, এই মামলার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। মিডিয়ার রিপোর্ট না থাকলে দুদক কখনো এই মামলা করত না।”

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর পরিবারের নামে পূর্বাচলের ছয়টি প্লট বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ১০ কাঠা। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এ বছরের শুরুতে ছয়টি মামলা করা হয়। আজ রায় হয় শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সন্তানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটির।

আদালত বলেন, “প্লট বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কোনো প্রকার আবেদন ছাড়াই, যা দুদক আইনের পঞ্চম ধারা লঙ্ঘন করে।”

বিচারক জানান, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ উদ্দিন আহমেদ আইন না মেনে শেখ হাসিনার প্লট বরাদ্দের অনুমোদন দেন। এরপর সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকারসহ অন্য কর্মকর্তারা রাজউককে প্লট বরাদ্দের সুপারিশ করেন। পরদিন রাজউকের বোর্ড সভায় নিয়ম না মেনে বরাদ্দ অনুমোদন হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, প্লট বরাদ্দের জন্য যে হলফনামা জমা দেওয়া হয়, তা নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত ছিল না। এছাড়া শেখ হাসিনা তাঁর স্বামী কর্তৃক ১৯৭৩ সালে প্রাপ্ত প্লটের তথ্য গোপন করেছেন। বিচারক বলেন, হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নামে কোনো প্লট নেই—এটা প্রতারণা।

রাজউক নোটারি ছাড়া হলফনামা গ্রহণ করে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট তাঁকে প্লট বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা প্লট হস্তান্তরের জন্য আবেদনও করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”