আসিয়ান বৈঠকের মধ্যেই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ
- প্রকাশঃ ০৩:২৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 84
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (ASEAN) শান্তি প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যখন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সীমান্তের রণক্ষেত্রে গোলাবর্ষণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাই বাহিনী বান্তে মিঞ্চায় প্রদেশে এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান থেকে চারটি বোমা নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া প্রেই চ্যান গ্রামে থাইল্যান্ড ‘বিষাক্ত গ্যাস’ ব্যবহার করেছে বলেও দাবি করেছে দেশটি। কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের সেনারা ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সাহসী ও অটল অবস্থানে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আজ ভোরে সা কাও প্রদেশে কম্বোডিয়ার বাহিনী ‘ভারী অস্ত্র’ ব্যবহার করে গোলাবর্ষণ করেছে। এতে খোক সাঙ এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে থাইল্যান্ড সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়া ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। এ পর্যন্ত সংঘাতের ফলে নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে।
কম্বোডিয়া: প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের কার্যালয় জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
থাইল্যান্ড: দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৪ লাখ থাই নাগরিক নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।
অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বোমা হামলা ও গোলাগুলি থেকে বাঁচতে শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ দিগ্বিদিক ছুটছেন। বাঙ্কারের ভেতরে শিশুদের কান্নার আওয়াজ সীমান্তের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।
শান্তি আলোচনার জন্য আজ সোমবার কুয়ালালামপুরে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। সংঘাত শুরুর পর এটিই তাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বৈঠকে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দাবি করেছেন, তার দেশ কখনোই আগ্রাসী ছিল না। তবে তিনি জানিয়েছেন, আগে কম্বোডিয়ার বাহিনীর দখলে থাকা প্রায় সব এলাকাই এখন থাইল্যান্ড পুনরুদ্ধার করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উভয় পক্ষকে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার, মাইন বসানো বন্ধ করা এবং কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য উভয় দেশকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের আসিয়ান বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই সীমান্ত সংঘাত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড় ধরনের কোনো আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেবে কি না।












