ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে সহিংস বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৭
- প্রকাশঃ ১২:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 97
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা অন্তত সাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিই গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সংঘটিত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোরেস্তান প্রদেশের একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিক্ষোভকারীদের হামলার সময় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ছাড়া লোর্দেগান, কুহদাশত ও ইসফাহান প্রদেশেও সহিংসতায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস জানিয়েছে, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাদের আধা সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
রোববার থেকে দেশটির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মুদ্রার মান পতন ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন। পরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ আন্দোলন দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান সরকার।
সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে প্রস্তুত সরকার।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও মারভদাশত, কেরমানশাহ, হামেদানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।












