ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে আরও পাঁচ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৮:৪০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 34

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয় ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন কৌশলগত দর্শন ডনরো ডকট্রিন (Donroe Doctrine) ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং উত্তর আটলান্টিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবুও ট্রাম্পের অবস্থান ন্যাটোর ভেতর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

কলম্বিয়া

দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে কলম্বিয়ার নাম। ভেনেজুয়েলা অভিযান-পরবর্তী সময়ে কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি পেত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগ তুলে তাকে ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’ বলে আখ্যা দেন। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের সম্পর্কে চরম টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে ইরান। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মেক্সিকো

প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি মাদক কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও সামনে এনেছেন।

কিউবা

সবশেষে ট্রাম্পের নজর রয়েছে কিউবার দিকে। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল কিউবা বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়বে। যদিও এখনই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছেন না তিনি, তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন- ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে যেন হালকাভাবে না নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডনরো ডকট্রিন’ ঘিরে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে আরও পাঁচ দেশ

প্রকাশঃ ০৮:৪০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয় ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন কৌশলগত দর্শন ডনরো ডকট্রিন (Donroe Doctrine) ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং উত্তর আটলান্টিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবুও ট্রাম্পের অবস্থান ন্যাটোর ভেতর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

কলম্বিয়া

দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে কলম্বিয়ার নাম। ভেনেজুয়েলা অভিযান-পরবর্তী সময়ে কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি পেত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগ তুলে তাকে ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’ বলে আখ্যা দেন। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের সম্পর্কে চরম টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে ইরান। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মেক্সিকো

প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি মাদক কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও সামনে এনেছেন।

কিউবা

সবশেষে ট্রাম্পের নজর রয়েছে কিউবার দিকে। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল কিউবা বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়বে। যদিও এখনই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছেন না তিনি, তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন- ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে যেন হালকাভাবে না নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডনরো ডকট্রিন’ ঘিরে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”