ভেনেজুয়েলা বিদেশিদের হাতে নয়—মার্কিন ঘোষণার জবাবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট
- প্রকাশঃ ০২:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 27
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্র পরিচালনায় বিদেশি কোনো শক্তির প্রভাব নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, বিদেশি এজেন্টরা ভেনেজুয়েলা শাসন করছে না। ভেনেজুয়েলার সরকারই দেশ চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার এক বক্তব্যে দেলসি রদ্রিগেজ এই মন্তব্য করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল দেবে এবং ওই তেল বিক্রির অর্থ তিনি নিয়ন্ত্রণ করবেন। ট্রাম্প বলেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। তিনি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, উল্লিখিত তেলের বেশির ভাগ ইতোমধ্যে উত্তোলন করে জাহাজে বোঝাই করা হয়েছে এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিশোধনাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার কমে ৫৬ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাজারদরে ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে এই তেল কেনে, তবে কারাকাসের সম্ভাব্য আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৭৫ কোটি ডলার। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ৫৫ ডলারে বিক্রি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেকার ইনস্টিটিউটের জ্বালানিবিষয়ক গবেষক মার্ক ফিনলে বলেন, তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল কোন সময়ের মধ্যে নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, এক মাসের হিসাবে এই পরিমাণ কিছুটা তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, বার্ষিক ব্যবহারের তুলনায় এটি খুবই কম।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের জ্বালানিবিশেষজ্ঞ স্কট মন্টগোমেরি বলেন, তেল বিক্রির আয় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বা দুই দেশের জনগণের মধ্যে কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দৃষ্টান্ত বা ব্যাখ্যা নেই।
গত শনিবার মার্কিন বাহিনী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাঁরা নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্রে রয়েছেন। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।
মাদুরোকে অপসারণের পর ট্রাম্প দাবি করে আসছিলেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। তবে দেলসি রদ্রিগেজ সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রয়েছে।
এদিকে দেলসি রদ্রিগেজের সমর্থনে মঙ্গলবার কারাকাসে বিশাল মিছিল করেন নারী সমর্থকেরা। একই দিনে মাদুরোর সমর্থনে মাদকবিরোধী বাহিনীর সদস্যদেরও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতেও ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।





























