ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১২ ঘণ্টায় ৯ বার ভূমিকম্পে কাঁপলো ভারত, পাকিস্তানে শক্তিশালী কম্পন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 31

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানে দফায় দফায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একই সময়ে ভারতের গুজরাট রাজ্যে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সংঘটিত ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে, তাজিকিস্তান–শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই কম্পনের প্রভাব পাকিস্তানের পাশাপাশি তাজিকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিকে একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দেশটিতে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫ এবং ৩ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।

এদিকে ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট জেলায় ঘন ঘন ভূকম্পন জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় মোট ৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এসব কম্পন ‘মাইক্রো’ ও ‘মাইনর’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় কোনো জানমালের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্যানুযায়ী, রাজকোট জেলার উপলেতা শহরের উত্তর-পশ্চিমে ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় এবং শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে সর্বশেষ কম্পন রেকর্ড করা হয়।

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজকোট এলাকায় একাধিক ভূমিকম্পকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাধারণত গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও রাজকোটে এ ধরনের ধারাবাহিক কম্পন নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ভারত ও পাকিস্তানে একযোগে ভূমিকম্পের ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ভূমিকম্প প্রতিরোধ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

১২ ঘণ্টায় ৯ বার ভূমিকম্পে কাঁপলো ভারত, পাকিস্তানে শক্তিশালী কম্পন

প্রকাশঃ ০৯:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানে দফায় দফায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একই সময়ে ভারতের গুজরাট রাজ্যে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সংঘটিত ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে, তাজিকিস্তান–শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই কম্পনের প্রভাব পাকিস্তানের পাশাপাশি তাজিকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিকে একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দেশটিতে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫ এবং ৩ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।

এদিকে ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট জেলায় ঘন ঘন ভূকম্পন জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় মোট ৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এসব কম্পন ‘মাইক্রো’ ও ‘মাইনর’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় কোনো জানমালের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্যানুযায়ী, রাজকোট জেলার উপলেতা শহরের উত্তর-পশ্চিমে ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় এবং শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে সর্বশেষ কম্পন রেকর্ড করা হয়।

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজকোট এলাকায় একাধিক ভূমিকম্পকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাধারণত গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও রাজকোটে এ ধরনের ধারাবাহিক কম্পন নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ভারত ও পাকিস্তানে একযোগে ভূমিকম্পের ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ভূমিকম্প প্রতিরোধ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”