ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিক্ষোভে ৬৪৮ নিহত, সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০২:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 34

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকারের কঠোর দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে যুদ্ধ চায় না জানালেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি সংলাপের পথ খোলা রাখার কথাও বলেছে ইরান।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ছিল চলমান বিক্ষোভের ১৬তম দিন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬৪৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে, বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান সরকার জানিয়েছে, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের হতাহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি তেহরান।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, বিক্ষোভ ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’ এসেছে। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিক্ষোভের তীব্রতা কমে যাওয়ার খবর প্রচার করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানকে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সর্বশেষ রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার মাধ্যমে তেহরান ‘শেষ সীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে’। তিনি আরও বলেন, ইরানের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ওয়াশিংটনের সামনে ‘কঠোর কিছু বিকল্প’ রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেরি বলেছেন, ইরান সংলাপে আগ্রহী। তবে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চরম অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আজ মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা, সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী পক্ষকে সহায়তার মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

চলমান সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার কথাও জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। তিনি বলেন, পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত থাকলেও তা হুমকি বা চাপের মধ্যে সম্ভব নয়।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও একাধিক পশ্চিমা দেশ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন–পীড়নের নিন্দা জানালেও ইরানের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন, যা সংকটের কূটনৈতিক মাত্রাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

ইরানে বিক্ষোভে ৬৪৮ নিহত, সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

প্রকাশঃ ০২:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকারের কঠোর দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে যুদ্ধ চায় না জানালেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি সংলাপের পথ খোলা রাখার কথাও বলেছে ইরান।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ছিল চলমান বিক্ষোভের ১৬তম দিন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬৪৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে, বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান সরকার জানিয়েছে, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের হতাহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি তেহরান।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, বিক্ষোভ ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’ এসেছে। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিক্ষোভের তীব্রতা কমে যাওয়ার খবর প্রচার করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানকে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সর্বশেষ রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার মাধ্যমে তেহরান ‘শেষ সীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে’। তিনি আরও বলেন, ইরানের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ওয়াশিংটনের সামনে ‘কঠোর কিছু বিকল্প’ রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেরি বলেছেন, ইরান সংলাপে আগ্রহী। তবে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চরম অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আজ মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা, সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী পক্ষকে সহায়তার মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

চলমান সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার কথাও জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। তিনি বলেন, পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত থাকলেও তা হুমকি বা চাপের মধ্যে সম্ভব নয়।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও একাধিক পশ্চিমা দেশ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন–পীড়নের নিন্দা জানালেও ইরানের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন, যা সংকটের কূটনৈতিক মাত্রাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”