দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে ৫ বছরের কারাদণ্ড
- প্রকাশঃ ০৫:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 77
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে দেশটির একটি আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ সামরিক আইন জারি এবং সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রায় ঘোষণা করেন। দেশটির ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো যে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তারের পর সাজা পাচ্ছেন।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, ইউন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বৈধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দিয়েছেন, যা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া সরকারি নথি জালিয়াতি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই অসাংবিধানিকভাবে সামরিক আইন জারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় ইউন বিমর্ষ ছিলেন এবং তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তার আইনজীবী ইউ জং-হওয়া রায়ের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা মনে করি, এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ইউনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছেন। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সংসদ স্থগিত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করার মাধ্যমে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউন সামরিক আইন জারি করেছিলেন। তীব্র প্রতিরোধের মুখে এটি মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়। ওই সামরিক আইন দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল, যা ১৪ ডিসেম্বরের পার্লামেন্ট অভিশংসনের পেছনে মূল কারণ ছিল।
বর্তমানে ইউন সিউল ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী আছেন। রায় ঘোষণার আগে আদালতের বাইরে তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করেছেন।












